স্পোর্টস ডেস্ক, ১৮ সেপ্টেম্বর : গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার শাহাদত হোসেনকে খুঁজে পাচ্ছেনা পুলিশ।

তবে এমন একজন তারকা খেলোয়াড়ের এভাবে লুকিয়ে থাকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের রহস্যের।

শাহাদতের পরিবার বলছে পুরো বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আগে তারা ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছ। তবে বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। ওদিকে নির্যাতিত শিশুটি এখনো চিকিৎসাধীন।

প্রায় দশ দিন আগে গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর থেকেই হদিস নেই জাতীয় দলের পেসার শাহাদত হোসেনের।

মিরপুরে তার বাসায় এবং অপর এক আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে তাকে খুঁজে এসেছে পুলিশ কর্মকর্তারা একে অভিযান হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন তাদের এ অভিযান চলবে।

তবে শাহাদত হোসেনের মতো খেলোয়াড়ের খোঁজ না পাওয়া বা তার পক্ষে এভাবে লুকিয়ে থাকা সম্ভব কি-না তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী খন্দকার মোজাম্মেল হক নিজেই।

তিনি বলেন, “এমন একজন সেলেব্রিটি কিভাবে গা ঢাকা দিয়ে আছেন সেটা অন্য সবার মতো আমারও প্রশ্ন”।

তাহলে কি পুলিশ যথেষ্ট তৎপর নয় ? এমন প্রশ্নের জবাবে মিস্টার হক অবশ্য বলেন পুলিশ হয়তো চেষ্টা করেও রহস্যজনক কোন কারণে খোজ পাচ্ছেনা শাহাদতের।

ওদিকে মামলা হওয়ার পর থেকেই লাপাত্তা হয়ে থাকা শাহাদত ও তার স্ত্রী মিরপুরে যে বাসায় থাকতেন সেখানে গিয়ে দেখা যায় তালাবন্ধ ফ্লাটটির ভেতরে এখনো লাইট জ্বলছে।

বাড়ির মালিক আমেনা বেগম বলেন, “শাহাদাত আমার বাসায় জুন থেকে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক এবং আর কোন যোগাযোগ হয়নি।ফ্লাটটিতে এখনো লাইট জ্বলছে”।

ওই বাড়ির পাশেই থাকেন রমজান সিকদার । তিনি জানান মামলার পর থেকে শাহাদত হোসেনকে দেখেননি তিনি।একি ধরনের কথা বলেন এলাকার আরেকজন অধিবাসী।

তবে মামলার বিষয়ে শাহাদত হোসেন কোন পদক্ষেপ নেবেন কি-না তা জানতে আজ সারাদিন অসংখ্যবার ফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মলি নামে তার এক বোন জানিয়েছেন ঈদের আগেই একটা কিছু পদক্ষেপ নেবেন তারা, তবে এখন তারা তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবির দিকে।

অবশ্য বিসিবির কাছে কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছেন তারা সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। “আমরা দেখছি ।ঈদের আগেই হয়তো কিছু একটা করতে হবে। দেখি বিসিবি কি বলে” মন্তব্য করেন তিনি

শাহাদতের পরিবার কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছে তা জানতে চাইলে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে।

জবাবে তিনিও কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। বরং শাহাদত বিষয়ে আবার কেন সংবাদ করা হচ্ছে তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেন।

যদিও এর আগে বিসিবির সভাপতি অবশ্য বলেছিলেন অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটের বাইরেই থাকতে হবে শাহাদতকে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *