ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। তার সঙ্গে যাচ্ছে ৬০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফরের চূড়ান্ত সফরসূচি জানানো হয়েছে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। এতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সচিব শহীদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই অধিবেশনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন। সেখানে তিনি ১ অক্টোবর পর্যন্ত অবস্থান করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী জানান, ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনের মূল আয়োজন (২০১৫ পরবর্তী উন্নয়নের এজেন্ডা) অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত এবারের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়ে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসব বৈঠকের তারিখ ও সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এবারের অধিবেশনে ৬০ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন। সংবাদ সম্মেলনে এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এবছরই জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) সময়ের বিবেচনায় চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হবে। এর ধারাবাহিকতায় এবছর একগুচ্ছ নতুন, যুগান্তকারী ও উচ্চাভিলাষী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে। তাছাড়া এ বছরের শেষ দিকে প্যারিসে জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে একটি কাঙ্ক্ষিত ও গঠনমূলক সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে এবারের অধিবেশন একটি প্রয়োজনীয় পরিপ্রেক্ষিত তৈরি করতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, এ সফরে মধ্যপ্রাচ্যে আইএসসহ বিশ্বব্যাপী সহিংস জঙ্গি তৎপরতার উত্থান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে লাখ লাখ বিদেশে আশ্রয়প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধানের বিষয়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় জাতিসংঘের অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা এবং নিরাপত্তা পরিষদসহ সংস্থাটির সামগ্রিক সংস্কার ইস্যু প্রাধান্য পাবে।

মন্ত্রী জানান, অধিবেশনকে কেন্দ্র করে উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের পুরোটা সময়জুড়েই অসংখ্য নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। এসব বৈঠকের কয়েকটিতে তিনি যৌথভাবে সভাপতিত্বও করবেন।

এই সফরেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক জানান, রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এসব বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *