ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে বিশ্ব পরাশক্তিদের যে সমাঝোতা হয়েছে, তা বাংলাদেশকে জানাতেই ঢাকা সফর করছেন তিনি। পাশাপাশি সামনের দিনগুলোতে ঢাকার সঙ্গে তেহরানের কী কী বিষয়ে সংযোগ ঘটবে, তারও একটি রুপরেখা এই সফরে ঠিক করা হবে।

ঢাকাস্থ ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের ঢাকা সফরটি বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটবে। বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুপুরের ভোজে অংশ নিবেন। এরপর বিকেলে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হবেন মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ঢাকা। ঢাকা আশা করছে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হবে। ইরানে বাংলাদেশীদের চাহিদা রয়েছে। এতে ইরানে বাংলাদেশের বিশাল শ্রমবাজারের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে।

পাশাপাশি ইরান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পাকিস্তান ও ভারত যে জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি করেছে, বাংলাদেশও ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে উপকৃত হতে চায়। ইরান এরই মধ্যে বাংলাদেশকে ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া পাট, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, প্যাকেটজাত খাবারসহ বাংলাদেশী বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা রয়েছে ইরানে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বিশেষ কূটনীতিক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ।

এর আগে গত আগস্টে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস ভায়েজি দেহনবি বলেন, ‘ইরানের ওপর থেকে বৈশ্বিক অবরোধ উঠে যাওয়ায় ইরান-বাংলাদেশ নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। কেননা, ইরান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করতে আমি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিব।’

দেহনবি জানান, ইরানের সঙ্গে জাতিসংঘসহ বিশ্বের ছয় রাষ্ট্রের অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরমাণু ইস্যুতে সমাঝোতা ঘটেছে। ঐতিহাসিক ওই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইরানের ওপর থেকে দীর্ঘ ১২ বছর পর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যায়ক্রমে উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক এই ঘটনায় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যে বাংলাদেশ এবং ইরানের মধ্যে নতুন দিগন্ত হাতছানি দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পরমাণু ইস্যুতে গত ১৪ এপ্রিল ইরানের সঙ্গে বিশ্ব পরাশক্তিদের (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন, জার্মানি ও জাতিসংঘ) ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগে সুইজারল্যান্ডের সুসান শহরে টানা আট দিন আলোচনা শেষে ২ এপ্রিল এই চুক্তি স্বাক্ষরে সমঝোতায় পৌঁছায় উভয় পক্ষ। এরও আগে ৩১ মার্চসহ বেশ কয়েকবার সমাঝোতার আলোচনা ভেস্তে যায়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঘটনাটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বের নেতারা। ইরানী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এটিকে ‘উভয় পক্ষের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন। তবে ইসরায়েল এবং সৌদি আরব এই চুক্তিকে নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তার নাতানাজ পরমাণু প্রকল্পের সেন্ট্রিফিউজ ১৯ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ হাজার ১০৪টিতে নিয়ে আসবে। দেশটি আগামী ১০ বছরের মধ্যে পরমাণু সমৃদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে নতুন কোনো চুল্লি নির্মাণ করবে না বলেও সম্মত হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *