বগুড়া, ৯ অক্টোবর : একজন নারীকে দিয়ে মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষকে ডেকে এনে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন আসলাম হোসেন নামের একজন। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে নতুন ফন্দি আঁটেন তিনি। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে সহযোগীদের নিয়ে ওই নারীকেই ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পুলিশের তদন্তে সত্য ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হলে নিজেই ফেঁসে গেছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘা গ্রামের বাসিন্দা আসলাম হোসেন ও তার সহযোগীরা।

আসলাম হোসেন এবং ভাড়াটে খুনি বাচ্চু প্রামাণিক বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। বগুড়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আবু রায়হান ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি প্রদানের আগে খুনের পরিকল্পনাকারী আসলাম হোসেন পুলিশের কাছে নিজেকে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি বলে দাবি করেন। তবে নন্দীগ্রাম উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তপন চন্দ্র বলেন, আসলাম কোনো পদে নেই। কর্মী হতে পারে।

প্রায় দেড় মাস আগে বিউটি বেগমে নামে ওই নারীর লাশ নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের উত্তর সৈয়দপুর গ্রামের পাশে একটি মেঠো পথের ধার থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকে পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটনে নামে। বিউটি বগুড়া শহরের চক সূত্রাপুর এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এসএসপি) গাজিউর রহমান বলেন, বিউটি বেগমের লাশের পাশে তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি পড়ে ছিল। ওই মোবাইলফোনের সূত্র ধরেই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে নামে পুলিশ। মোবাইলফোনে কল লিস্টের সূত্র ধরে জানা যায় খুন হওয়ার রাতেই বিউটি বেগম একাধিকবার কথা বলেছেন উত্তর সৈয়দপুর গ্রামের আশরাফ উদ্দিনের সঙ্গে। এরপর আশরাফ উদ্দিন জানান, ঘটনার রাতে একজন অজ্ঞাত নারীর মোবাইলফোনে তাকে কয়েকবার কল করেছিল। ওই নারী বিপদে পড়ার কথা বলে মোবাইলফোনে একাধিকবার আশরাফকে বাড়ির বাইরে যেতে বলেন। কিন্তু বিপদ আঁচ করতে পেরে তিনি বাড়ির বাইরে বের হননি। বিষয়টি রাতেই তিনি পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীদেরও জানিয়ে ছিলেন। আশরাফকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল আবদুল কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তির।

গাজিউর রহমান বলেন, আশরাফের দেওয়া ওই তথ্যের ভিত্তিতে একে একে আটক করা হয় আবদুল কুদ্দুস, তার ছেলে উজ্জল হোসেন, আসলাম, সিডি ব্যবসায়ী রনি এবং ভাড়াটে খুনি বগুড়া শহরের জহুরুল নগর এলাকার বাচ্চু প্রামাণিককে। পরে চার দিনের রিমান্ড শেষে আসলাম ও বাচ্চু প্রামাণিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ভাড়াটে খুনি বাচ্চু প্রামাণিক আদালতকে বলেন, আবদুল কুদ্দুস ও আশরাফ আলীর মধ্যে বিরোধের সুযোগ নিয়ে আসলাম দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আশরাফকে শায়েস্তা করার দায়িত্ব নেন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আসলাম। এ জন্য তাকে একটি সাইকেলও কিনে দেন আসলাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী বগুড়ার শহরের সূত্রাপুরের বিউটি বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাচ্চু। বিউটিকে ছয় হাজার টাকা দিয়ে আশরাফকে মোবাইলফোনে কল দিয়ে বাড়ির বাইরে ডেকে আনার কথা বলেন। পরিকল্পনা ছিল বাড়ির বাইরে এলেই আশরাফকে খুন করা হবে। ঘটনার রাতে আসলামসহ নয়জন মিলে ৯টার দিকে কইডালা ও উত্তর সৈয়দপুর গ্রামের মাঝখানে ওই মেঠো রাস্তায় বিউটিকে নিয়ে অপেক্ষা করেন। কিন্তু বিউটি বারবার আশরাফের মোবাইলফোনে কল দিলেও আশরাফ বাড়ির বাইরে বের হননি। পরে তারা পরিকল্পনা পাল্টে বিউটিকেই খুন করে আশরাফকে ফাঁসানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর পালাক্রমে বিউটিকে ধর্ষণের পর গলায় চাদর পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। পুলিশ মোবাইলফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আশরাফকে যাতে সন্দেহ করে এ জন্য বিউটির লাশের কাছে মোবাইলফোনটিও ফেলে যান তারা। সূত্র : প্রথম আলো

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *