Search
Thursday 18 August 2022
  • :
  • :

ক্ষমা প্রার্থনায় অর্থমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ক্ষমা প্রার্থনায় অর্থমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর : বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

বুধবার ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন আহমেদ ও মহাসচিব অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

এতে বলা হয়, সপ্তম বেতন কাঠামোতে সচিবদের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চ গ্রেড ১-এ। শুধুমাত্র মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মূখ্য সচিব গ্রেড-১ এ থাকলেও একটি অতিরিক্ত ভাতা পেতেন। কিন্তু সদ্য ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেলে গ্রেড-১ এর উপরে আরও দু’টি বিশেষ ধাপ থাকায় এবং সিলেকশন গ্রেড বাতিল করায় অধ্যাপকরা আর কোনোদিনই গ্রেড-১ প্রাপ্ত হবেন না। প্রকারান্তরে শিক্ষকদের চার ধাপ অবনমন করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘোষিত বেতন কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চার দফা দাবির কোনোটিই গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি দাবি পূরণের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়নি।

এতে বলা হয়, ওপরন্তু অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে শিক্ষকদের বিষয়ে বলেছেন, শিক্ষকদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এছাড়াও তিনি শিক্ষকদের সম্পর্কে আরও কিছু বিরূপ মন্তব্য করেছেন, যা শুধু অনভিপ্রেতই নয় অসংলগ্নও বটে। অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও অযাচিত, বিরূপ ও হাস্যকর মন্তব্য করে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে তিনি স্বৈরাচার সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং এখনও তার স্বৈরাচারী মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি বিধায় তিনি এরকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন।

এতে বলা হয়, শিক্ষকদের সম্পর্কে তার এ মন্তব্য বাংলাদেশের শিক্ষা পরিবারের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি সদস্যের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের এ দুই নেতা বলেন, এ অবস্থায় আমরা অর্থমন্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাই। অন্যথায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

প্রসঙ্গত, শিক্ষকদের দাবি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জ্ঞানের অভাবে আন্দোলন করছেন। তাদের কর্মবিরতির কোনো যুক্তি নেই। তারা জানেনই না যে নতুন বেতন কাঠামোতে তাদের জন্য কী আছে, কী নেই।

একই সঙ্গে তিনি অধ্যাপক পদে পদোন্নতি নিয়েও মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের করাপ্ট প্র্যাকটিস (দুর্নীতি চর্চা) নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। প্রত্যেকেই এখানে সহজেই অধ্যাপক হয়ে যান। সহযোগী অধ্যাপকদের তারা খেয়াল খুশিমতো পদোন্নতি দেন। দেখা গেছে, নিচে ১০ জন প্রভাষক; কিন্তু ওপরে এক হাজার অধ্যাপক। এটা কিছু হলো? শুধু ওপরে পদোন্নতি হবে, এটা ঠিক না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদাগত বৈষম্যের বিষয়টি নিরসনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন এবং তাদের সাথে আলোচনা-পর্যালোচনা করে অনতিবিলম্বে কাঙ্খিত সকল দাবি-দাওয়া পূরণ করবেন।

অন্যথায় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিসমূহ পূরণে লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published.