স্পোর্টস ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আসা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নিরাপত্তা প্রধানের পরবর্তী সভার দিকে তাকিয়ে আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান। তিনি মনে করছেন, এই মুহূর্তে ক্রিকেট খেলার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি হল বাংলাদেশ। রবিবার ঢাকায় অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনে সাংবাদিকদের বিসিবি প্রধান ঢাকায় শন ক্যারলের সফর প্রসঙ্গে জানান। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান এসেছেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। শুধু অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থের ওপরই আঘাত আসতে পারে বলে তারা শংকিত। সে জন্য আসতে ভয় পেয়েছে। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে শনিবার বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে দেয়ার কথা জানায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, এই আশংকা ভিত্তিহীন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলতে নতুন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বে আজ ঢাকায় আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া দলের। আমি বলেছি, আমাদের এমন কিছু জানা নেই। বিশেষ করে এখন ক্রিকেট খেলার জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ স্থানগুলোর একটি। ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের সঙ্গে ওরা বসতে চেয়েছে। আমরা এখানে বসেই সেটা ঠিক করে ফেলেছি। কাল (আজ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওখানে মিটিং হবে। সেখানে যারা নিরাপত্তা দেয় তাদের সবাইকে নিয়ে বসা হবে, বলেছেন বিসিবি প্রধান।

সিরিজ পেছানোর কোনো কারণ দেখছেন না বিসিবি প্রধান। নাজমুল হাসান বলেন, ওরা বলছে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থের কথা। আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা রয়েছে। পেছানোর কোনো কারণ আমি দেখি না। কিন্তু উনাদের হাতে কি তথ্য আছে জানি না, এখনও আমাকে কিছু বলেনি। অস্ট্রেলিয়া সরকার শুক্রবার বাংলাদেশ নিয়ে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়ে জানায়, বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ানদের ওপর হামলার হুমকি নিয়ে তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য আছে। ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের (ডিএফএটি) নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশে অনিশ্চিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়ানদের সেখানে উচ্চমাত্রায় সতর্ক থাকা উচিত।

আগামী ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ও ১৭ অক্টোবর মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। সফরসূচিতে ৩ অক্টোবরে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও শুরু হওয়ার কথা। তবে ম্যাচগুলো নির্ধারিত তারিখে হবে কিনা তা জানানো হয়নি। অস্ট্রেলিয়া শেষবার বাংলাদেশ সফরে এসেছিল ২০১১ সালে। আর ২০০৬ সালের এপ্রিলের পর থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোনো টেস্ট খেলেনি তারা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *