বিনোদন ডেস্ক, ৮ অক্টোবর : সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র— এই আপ্তবাক্যটি যে কত সত্যি, তা ইদানীং বিজেপি–র বেশ কয়েকটি সভায় গেলে টের পাওয়া যায়। রূপা গাঙ্গুলি ও লকেট চ্যাটার্জি সভায় গেলে তাঁদের ঘিরে জনতার কৌতূহলের সীমা থাকে না। এই তো ক’মাস হল, তারা বি জে পি–তে যোগ দিয়েছেন। তাতেই এত সাড়া। গ্ল্যামার সাধারণ মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। তাই দু’জনের এত রমরমা। এসব নিয়েই লকেট চ্যাটার্জির সঙ্গে কথা বলেছেন অরুন্ধতী মুখার্জি। ‘সুন্দর’ শুনে তিনি অনাবিল হাসি হাসলেন, কিন্তু বাস্তবের মাটি থেকে পা ওঠালেন না। কলকাতার আজকাল পত্রিকার সেই সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হলো।

• আপনি তৃণমূলে ছিলেন মাত্র ৩ বছর। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি–তে যোগ দিলেন। এত তাড়াতাড়ি আপনার তৃণমূলের সঙ্গে বিচ্ছেদ হল, এ তো হানিমুন পিরিয়ডও কাটল না।

লকেট : আমি অন্যরকম আশায় তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলাম। তখন ভেবেছিলাম, দিদি বাংলার জন্য অনেক কিছু করবেন, অনেক চেষ্টা করবেন। কিন্তু সত্যিই তিন বছর পার হতে না হতেই আমি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লাম। বুঝতে পারলাম, মানুষ আশাহত। ওই সময় আমি কোনও কাজ করতে পারিনি। মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি ছিলাম। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মহিলা কমিশন প্রতিবাদ ও আন্দোলন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের বারণ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রথম মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্দোলন করার একটা স্পিরিট ছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল, মহিলা কমিশনের অস্তিত্বই যেন বিপন্ন। তারা কিছুই করতে পারেন না। সাত্তোরের হায়াতুন্নিসা বিবির ঘটনা নিয়ে কমিশন এগোচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও নিষেধ আসে, কমিশন আর এগোতে পারেনি। মহিলাদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, আর মহিলা কমিশন কিছু করতে পারবে না? বাংলার মহিলাদের কাছে আমরা তা হলে কী দেখাব? ওখানে কাজ করার মতো পরিবেশ ছিল না।

• অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে টলিউডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। তিন টলিউডের হিরো–হিরোইনদের এক ডাকে তাদের জড়ো করতে পারেন। আপনি দল ছাড়ার আগে কি অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন?

লকেট : টলিউডের শিল্পীরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চান। সেখানে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ মানতে চান না কেউই। এখন যাদের তৃণমূলে দেখছেন, আপনি জানবেন, তাদের অধিকাংশই বাধ্য হয়ে তৃণমূলের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। সংসার চালাতে হবে, যে কাজ তারা ভালবাসেন, সেই কাজ পেতে হবে। সেজন্য তারা জোর করে আছেন। তারা ভীতু। কিংবা তাঁদের কাছে আর কোনও রাস্তা নেই। আর একদল যারা আছেন, তারা সুবিধা পাওয়ার জন্য আছেন। আমাদের অভিভাবক হিসেবে মিঠুনদা, বুম্বাদা, চিরঞ্জিতদা আছেন। তাঁরা আমাদের সমস্যা নিয়ে বলুন। কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জিৎ বা দেব বলুক। আমরা মেনে নেব। আমাদের পেশায় কোনও রঙ নেই। জোর করে সবুজ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

• তা হলে কি আপনি ব্যতিক্রমী সাহসী?

লকেট : আমি বিরাট কোনও কাজ করি না। ছোট ছোট কাজ করি। আর আমার হিরোইন হওয়ার মতো বয়স নেই, হিরোইন হয়ে নাচব, সেটাও মানুষ পছন্দ করবেন না। সেজন্য আমি অনেক স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি।

• বিজেপি–তে কাজ করতে পারছেন?

লকেট: অবশ‍্যই পারছি। একটা সাম্প্রতিক উদাহরণ দিই। পুরভোট যেভাবে হল, তার প্রতিবাদে আমরা শনিবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান করি। রবিবার আবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সুশান্তরঞ্জন উপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করি। আমাদের চাপে শেষ পর্যন্ত গণনা স্থগিত রইল। এই অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দিতে পেরে আমার খুবই ভাল লেগেছে। আরও ভাল লেগেছে এই কারণে যে, আমরা মানুষের জন্য অন্তত একটা কাজ করতে পেরেছি। মানবিকতার জয় হল।

• তা হতে পারে। কিন্তু গত বছরের লোকসভা নির্বাচনের সময় রাজ্যে যে মোদি–হাওয়া ছিল, এখন আর তা নেই। রাজ্য বি জে পি এখন স্তিমিত।

লকেট : আমি তা মনে করি না। মোদিজি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তাতে বাংলার মানুষও উপকৃত হচ্ছেন। আমি কিছুদিন আগে সানফ্রান্সিসকো গিয়েছিলাম। ওখানকার বাঙালিরা মোদিজি সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত। আমার মন বলছে, এ হাওয়া থাকবে। ২০১৬–তে কী হবে, তা এখনই বলা যায় না। শনিবার যে ভোট হল, তার একটা বিরাট প্রভাব মানুষের ওপর থাকবে। তারা মমতাকে ঝেড়ে ফেলে দেবেন। ঠিকভাবে ভোট হলে কী হবে, কেউ বলতে পারে না। মানুষ ভোট দিতে পারলে আমাদের জয়ের পথ মসৃণ হবে।

• আপনি কী করে এত নিশ্চিত যে, মানুষ ঠিকঠাকভাবে ভোট দিতে পারবেন?

লকেট: এটা করতে হবে। আমরা বাংলা জুড়ে মানুষের মধ্যে প্রচার চালাব যে, আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিন। আমাকেই ভোট দিতে হবে এমন নয়, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত নিজে যাতে নিতে পারেন, তাই করুন। বাংলার মানুষ গর্জে উঠলে ভোট লুট হবে না, ডাকাতি হবে না। আমার আত্মবিশ্বাস আছে।

• আপনি কেন রাজনীতিতে এলেন?

লকেট : আমার বাড়ির কেউ কখনও রাজনীতি করেননি। কোনও দলেও ছিলেন না। তবে, আমি বাবা–মায়ের কাছ থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছিলাম— ন্যায়ের সঙ্গে থাকবে, অন্যায়ের সঙ্গে নয়। দেখছিলাম, বাংলায় অন্যায় হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য একটা মঞ্চ দরকার। এখন আমি সেই মঞ্চ পেয়েছি।

• সেই অভিজ্ঞতা কেমন?

লকেট : আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা খুবই কম। দলের যাঁরা নেতা আছেন, তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে চলি। তবে, বিজেপি–তে নতুন এলেও আমার কোনও প্রস্তাব থাকলে তা দলকে জানাই। সিদ্ধান্ত নেতাদের। আমি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় নেই।

• সুন্দর মুখ আপনার ইউ এস পি। সেই দিয়েই কি আপনি মানুষের মন জয় করবেন?

লকেট (তিনি হেসে ফেললেন) : সুন্দর মুখটাই সব কথা নয়। তা দিয়ে বেশিদিন চলবে না। আমরা যখন অভিনয় করি, তখন মুখ যতই সুন্দর হোক, অভিনয় না পারলে তা দিয়ে বেশিদিন মানুষের মন ভোলানো যায় না। রাজনীতিতে এ কথা তো আরও সত্য। আজ আমি বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। হয়ত সাড়া পাচ্ছি। ক্যামেরা আমাকে ধরছে। কিন্তু কাজ করতে না পারলে শেষ পর্যন্ত এই মানুষরাই আমাকে বলবেন, কী দিদি, ক্যামেরায় মুখ দেখাতে এসেছেন? তাই কাজ করেই মানুষের মন ভোলাতে হবে। মুখ সুন্দর হোক বা না হোক, মানুষের কাজ করতে পারলে তাদের ভালোবাসা পাব।

– সূত্র : আজকাল

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *