খুলনা, ১৯ সেপ্টেম্বর : খুলনায় এক্সিম ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তা পারভিন সুলতানা (২৪) ও তার বৃদ্ধ পিতা ইলিয়াস হোসেন চৌধুরীকে (৭০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী সেফটিক ট্যাঙ্ক থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের লবনচোরা থানার ভিতর বুড়া মৌলভীর দরগার পিছনে ৩ নং রোড়ে একটি টেন-শেড বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এই বাড়ীতে বাবা আর মেয়ে একাই গত তিন বছর থেকে বসবাস করে আসছিল।

নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে তার বড় বোন মোবাইলে জানায় পারভিন সুলতানা এবং বাবার মোবাইল ফোন দীর্ঘক্ষন ধরে বন্ধ পাচ্ছি। তিনি দ্রুত বাড়ীতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। এই সময় সে বাড়ীতে এসে দেখি দরজায় তালা মারা। পরে আমি এবং আবু সাইদ নামে একজন ভিতরে প্রবেশ করি। এসময় ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র এলোমেলো এবং ব্যাংকের চেক বই ছড়ানো ছিটানো দেখতে পাই। পরে দুই সেফটিক ট্যাঙ্কে বাবা ও বোনের দেহ পড়ে থাকতে দেখি। তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বুঝতে পারি, দুইজনই মৃত। নিহতের ভাই আরও জানান, তার বোন পারভিন সুলতানার এক বছর আগে বিয়ে হয়েছে । তার স্বামীও একই ব্যাংকে ঢাকায় কর্মরত আছেন। ঘটনা শোনার পর তিনি খুলনার পথে রওনা হয়েছেন।

হরিনটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, তারা খবর পেয়ে ১১টার পর এখানে আসেন। লাশ দুটির গলায় শ্বাসরুদ্ধের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক চক্র নিহতদের পরিচিত বলে তিনি ধারনা করছেন ।ডাকাতি করার সময় চিনতে পারায় তাদের হত্যা করা হতে পারে। তিনি বলেন, বাসায় বাইরে রক্ত মাখা একটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভিতর সিগারেট খাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। ঘরের মধ্যে একটি কনডম পাওয়া গেছে যা আলমত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এই রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত লবনচোরা থানা পুলিশ লাশ দুটির সুরাত হাল রিপোর্ট তৈরী করছে। নিহত বৃদ্ধ ইলিয়াস হোসেনের গলায় ফাসের দাগ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পারভিন সুলতানার দেহ বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

নিহতর ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী জানান তার বাবা এই খানে তিন বছর আগে টিন শেডের বাড়ী তৈরী করেছেন।তবে তিনি শহরে ইজিবাইক চালান বিধায় অন্যত্র থাকেন।

খুলনা ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (দক্ষিন) জাহাঙ্গির হোসেন বিশ্বাসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলে ধারনা করছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *