Search
Saturday 19 January 2019
  • :
  • :

আহত জাফর ইকবালকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে

আহত জাফর ইকবালকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে

সিলেট, ৩ মার্চ : হামলার শিকার লেখক-শিক্ষাবিদ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে ওসমানি মেডিকেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিলেট বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হবে।

এরআগে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাকে ঢাকায় নেওয়া হবে। ডা. দেবপদ রায় বলেন, ‘জাফর ইকবালের শরীর থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে। ওনার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’

পরে রাত ৯টার দিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ওসমানি মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আহত ড. জাফর ইকবালকে ঢাকায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

এরআগে শনিবার বিকেলে শাবি ক্যাম্পাসে হামলার শিকার হন অধ্যপক জাফর ইকবাল। আহতাবস্থায় জাফর ইকবালকে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুল হক বলেন, ‘তার মাথার পেছনে ধারাল কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আঘাত কতটা গুরুতর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলা যাবে। তবে তার জ্ঞান রয়েছে।’

অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ আটকে রাখা হয়েছে। এখনও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ফেস্টিভ্যালের সমাপনী অনুষ্ঠান চলাকালে এ হামলা চালানো হয়। অনুষ্ঠানে জাফর ইকবাল বক্তব্য দিচ্ছেলেন। এ সময় পেছন থেকে তার মাথায় ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে আটকে পিটুনি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটক করে রেখেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে তিনি পড়ে আছেন। কোনো কথারই জবাব দিচ্ছেন না।

অধ্যাপক জাফর ইকবালের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জয়নাল আবেদিন বলেন, মঞ্চের পেছন থেকে এসে এক ছেলে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশসহ অন্যরা তাকে আটক করে। হামলাকারী ছেলের বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৭ বছর হবে। জাফর ইকবালের স্ত্রী অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হক এ মুহূর্তে ঢাকায় অবস্থান করছেন। হামলার খবর শুনে তিনি সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন বলে জানান জয়নাল আবেদিন।

কী কারণে জাফর ইকবালের উপর এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। -সমকাল