Search
Saturday 19 October 2019
  • :
  • :

‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর পজেটিভ দিকগুলো নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে’

‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর পজেটিভ দিকগুলো নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে’

ডেইলি রিপোর্ট ডেস্ক : বিশ্বে মেধাবী শিক্ষার্থীদের একটাই স্বপ্ন থাকে- দেশের শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষায় জ্ঞান অর্জন করা। আর এ জন্য শিক্ষার্থীরা বেছে নেয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। যারা এরই মধ্যে বিশ্বের সেরা-সেরা বিদ্যাপীঠগুলো ঘুরে এসেছেন তারা বাস্তবে দেখেছেন দেশের সাথে বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তর ব্যবধান।

প্রতিযোগিতার বিশ্বে শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সর্বপ্রথম প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাপদ্ধতি চালু করে। আর এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন বিএসবি ক্যামব্রিয়ান অ্যাডুকেশন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান লায়ন এম. কে. বাশার।

বর্তমানে ক্যামব্রিয়ানের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্য, আমেরিকা, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনের মতো উন্নত দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়ন করছেন।

দেশের পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিএসবি ক্যামব্রিয়ান অ্যাডুকেশন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান লায়ন এম. কে. বাশার। তার একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডেইলি রিপোর্ট বিডি’র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মনিরুল ইসলাম ফরাজী।

ডেইলি রিপোর্ট : কেমন আছেন?
লায়ন এম. কে. বাশার : জ্বি, ভালো আছি।

লায়ন এম. কে. বাশার : আপনি কেমন আছেন?
প্রতিবেদক : জ্বি, আমিও ভালো আছি।

ডেইলি রিপোর্ট : দেশের পাবলিক, প্রাইভেট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চলমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলুন?
লায়ন এম. কে. বাশার : অনেক প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি যে সার্টিফিকেটগুলো দিচ্ছে সেগুলোর দেশে বা বিদেশে অনেক সময় একসেপ্টেবল হচ্ছে না। এসব কারণে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোর পজেটিভ দিকগুলো নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ডেইলি রিপোর্ট : দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সার্টিফিকেট বিক্রি হচ্ছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়টি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?
লায়ন এম. কে. বাশার : একেকটি ইউনিভার্সিটির জন্য যে ইনফ্রাস্টট্রাকচার দরকার বেশির ভাগ ইউনিভার্সিটির সেটা নেই। এখন দেশে প্রায় ১০০টিরও বেশি ইউনিভার্সিটি আছে। তার মধ্যে হয়তো ৪ ভাগের ১ ভাগ ইউনিভার্সিটি ডেভেলপ করতে পারেনি। এ জন্য বড় বড় ইউনিভার্সিটিগুলো থেকে শুরু করে ছোট ছোট ইউনিভার্সিটিগুলোর বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

ডেইলি রিপোর্ট : বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোকে ছাপিয়ে যাচ্ছে বলে অনেক শিক্ষাবিদরা মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে যদি বলতেন?
লায়ন এম. কে. বাশার: এটা অবশ্যই সত্য ঘটনা যে, অনেক পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে আমাদের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি এগিয়ে যাচ্ছে এবং পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলো সেই ট্রেডিশনাল সিস্টেমেই চলে যাচ্ছে। সারা পৃথিবীতেও পাল্টাচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে নতুন নতুন সিস্টেম চালু হচ্ছে। একটা সময় ছিল তখন ইতিহাস পড়তো, পানি পথের যুদ্ধ কবে হয়েছে সেটা পড়তো এবং মুখস্ত করার চেষ্টা করতো। কিন্তু এখন তো সাইবারক্রাইম হচ্ছে। এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন হবে সাইবার অ্যাটাক্টই হবে। একসময় যার গোলাবারুদ বেশি ছিল সে শক্তিশালী ছিল কিন্তু এখন যার ইনফরমেশন যত বেশি আছে সে তত রিচড্। এখন প্রযুক্তি পাল্টাচ্ছে তার সাথে সাথে সাবজেক্টগুলোও পাল্টাচ্ছে এবং সময়োপযোগী হচ্ছে।

ডেইলি রিপোর্ট : ছাত্র-ছাত্রীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
লায়ন এম. কে. বাশার : বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনসহ সব আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখানে যদি কোনো কিছু একটা ঘটে এটার রেশ কিন্তু সারাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে। আমি ছোট্ট একটা উদাহরণ দেই- কেয়ার টেকার গভর্মেন্টের সময় একটা দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বলেছিল শাহবাগে। সাথে সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হয়েছিল। একইসঙ্গে সারাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও এবং সেই সময় কিন্তু কেয়ারটেকার গভর্মেন্ট টিকতে পারেনি। ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের দাবিগুলো সব সময়ই যৌক্তিক হয়। তারা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের কথা বলে আসছে। আমি মনে করি, দেশের কল্যাণের জন্য মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হওয়া দরকার। অযোগ্য মানুষ দিয়ে আপনি অফিস পরিচালনা করতে পারবেন না। কাজের যায়গায় কাজের লোক নিয়োগ দেয়া দরকার। অযোগ্য লোককে কোথায় বসানো হলে সে মনে করে সেই সবচেয়ে বেশি যোগ্য। সে যোগ্য লোককেও অযোগ্য মনে করে। যার কারণে দেখা যাচ্ছে অনেক সময় সেখানে কাজের পরিবেশই নষ্ট হয়ে যায়।

ডেইলি রিপোর্ট : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে কিছু বলুন?
লায়ন এম. কে. বাশার : আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো সময়োগযোগী সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত ১০ বছরে যেসব সাবজেক্ট চালু করেছে তার মধ্যে কিছু সাবজেক্ট সময়োপযোগী করে চালু করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডেইলি রিপোর্ট : আপনার ব্যক্তি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গল্প বলুন যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করেছে?
লায়ন এম. কে. বাশার : ৮ম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার শিক্ষক একদিন আমাদের ক্লাসে বলেছিলেন, তুমি যদি মনে করো যে এই গ্রামের মানুষ তোমাকে চিনবে তাহলে তুমি গ্রামেই থাকো। যদি মনে করো যে তোমাকে থানার লোক সবাই চিনবে তাহলে তুমি থানাতেই থাকো। আর যদি তুমি মনে মনে করো যে তোমাকে জেলার লোক চিনবে তাহলে তুমি জেলাতেই থাকো। যদি তুমি মনে করো যে তোমাকে সারাদেশের লোক চিনবে তাহলে তুমি ঢাকাতে চলে যাও।

ডেইলি রিপোর্ট : ডেইলি রিপোর্টের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।
লায়ন এম. কে. বাশার : আপনাকে এবং ডেইলি রিপোর্ট পরিবারকেও ধন্যবাদ।

উল্লেখ্য, লায়ন এম কে বাশার ১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দরুইন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মোহাম্মদ শরিয়ত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং মা সালেহা খাতুন।

লায়ন বাশার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাজধানীর ঢাকা কমার্স কলেজ ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তার সহধর্মিণী লায়ন খন্দকার সেলিমা রওশন ক্যামব্রিয়ান অ্যাডুকেশন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ দম্পতির তিন কন্যা- বুশরা আরাবি, সারা আরাবি ও বাশারা আরাবি।

লায়ন এম কে বাশার গড়ে তুলেছেন ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেট্রোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কিংস স্কুল, কিংস কলেজ, মাদরাসাতু সালেহা খাতুন, উইনসাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যামব্রিয়ান কালচারাল একাডেমি, ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টার, ক্যামব্রিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব এভিয়েশন, ক্যামব্রিয়ান টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, ক্যামব্রিয়ান স্পোর্টস একাডেমি। এছাড়া (প্রস্তাবিত) ক্যামব্রিয়ান ইউনিভার্সিটির অন্যতম উদ্যোক্তা তিনি।

বর্তমানে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক, বিএসবি ট্রাভেলস, বিএসবি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব এবং বিএসবি ইভেন্ট অ্যান্ড এক্সপো ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য ও লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ইমপিরিয়ালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ৩১৫ এ-২ এর দ্বিতীয় ভাইস জেলা গভর্নর।

লায়ন বাশার অর্জন করেছেন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন ইন অ্যাডুকেশন, ইনোভেশন লার্নিং, অ্যাডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন ইউথ বেস্ট একাডেমিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি ইন্টারফেস, আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন ইন ডিজিটাল লার্নিং, বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ স্বর্ণপদক, অতীশ দীপংকর অগ্রসর শান্তি স্বর্ণপদক-২০১৫, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ কালচারাল ফাউন্ডেশনের সম্মাননা পদক-২০১১, শেরেবাংলা মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, অর্থকণ্ঠ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড-২০১৩, ফিন্যান্সিয়াল মিরর বিজনেসম্যান অ্যাওয়ার্ড, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ‘দি ম্যাজিস্টিক ফাইভ কনটিনেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর কোয়ালিটি এক্সিলেন্স- ২০১৩’, ভারতের মুম্বাইয়ের এডুপ্রেণার অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড অ্যাডুকেশন কংগ্রেস-২০১২, সিঙ্গাপুরের অ্যাডুকেশন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট বি স্কুল- ২০১২, স্পেনের বার্সোলোর ওয়ার্ল্ড বিজ অ্যাওয়ার্ড- ২০১২, স্বামী বিবেকানন্দ ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১১, ইন্টারন্যাশনাল স্টার ফর লিডারশিপ ইন কোয়ালিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১২, প্যারিস থেকে দি নিউ এরা অ্যাওয়ার্ড-২০১০।