Search
Saturday 24 February 2018
  • :
  • :

ডেসকোর বিদ্যুতের দাম ইউনিটে ৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ

ডেসকোর বিদ্যুতের দাম ইউনিটে ৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ৩ অক্টোবর : গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা বা ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো)। আর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

সোমবার রাজধানীর টিসিবি মিলনায়তনে বিইআরসি আয়োজিত বিদ্যুতের দাম পুনর্নির্ধারণবিষয়ক গণশুনানিতে এই সুপারিশগুলো করা হয়।

গণশুনানিতে ডেসকোর প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ২০ পয়সা। তবে এ বিদ্যুতের গড় সরবরাহ মূল্য ৭ টাকা ৭২ পয়সা। ফলে ইউনিটপ্রতি ঘাটতি ৫২ পয়সা বা ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু বাণিজ্যিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে মুনাফা করে ডেসকো। পাশাপাশি আবাসিকেও ৪০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মুনাফা হয়। আর বাকি সব গ্রাহকের ক্ষেত্রে ডেসকোর ট্যারিফ ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু কারিগরি কমিটির পর্যালোচনায় বলা হয়, সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণার ফলে ডেসকোর ব্যয় বেড়েছে ইউনিটপ্রতি ৮ পয়সা, যা ১ দশমিক ১১ শতাংশ বৃদ্ধি করলেই যথেষ্ট। তবে বিদ্যমান পাইকারি মূল্য বাড়ানো হলে খুচরা পর্যায়ে তা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে।

শুনানিতে অংশ নিয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর দায়ভার গ্রাহকদের ওপর চাপানো সঠিক হবে না। প্রয়োজনে ঘাটতি অন্য উপায়ে মেটানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন আহমেদ ইউনিটপ্রতি ৮ পয়সা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, মূল্যবৃদ্ধি করে কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা যায়নি। রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে কিন্তু তা লাভজনক হয়নি। চালের আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ কমানো হলো, কিন্তু চালের দাম কমেনি। তাই ডেসকোকে কীভাবে লাভজনক করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।

ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা ও মিরপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ করে ডেসকো। বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের সভাপতিত্বে কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, রহমান মুরশেদ, আবদুল আজিজ খান ও মাহমুদ উল হক ভূঁইয়া শুনানিতে অংশ নেন। -প্রথম আলো।