Search
Tuesday 24 May 2022
  • :
  • :

৯৯’র বিশ্বকাপে ইচ্ছে করে হেরেছিল পাকিস্তান : মিয়াঁদাদ

৯৯’র বিশ্বকাপে ইচ্ছে করে হেরেছিল পাকিস্তান : মিয়াঁদাদ

স্পোর্টস ডেস্ক, ১০ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশের ক্রিকেটের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয় দুটি ঘটনাকে। ১৯৯৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয় আর ১৯৯৯ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তখনকার দুর্দান্ত ফেভারিট পাকিস্তানকে হারানো। ১৯৯৭ আইসিসি ট্রফি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে যতটা না প্রভাব ফেলেছে, তার চেয়ে বেশি পথ নির্দেশক হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তানকে হারানো। ওই জয়ের পরই ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এবং খুব দ্রুত টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির দিকেও এগিয়ে যায় টাইগাররা। ক্রিকেটে বাংলাদেশের মসৃণ পথ চলার সোপানই রচনা করে দেয় ওই জয়টি।

তবে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের ওই পরাজয়কে অনেকেই ভিন্ন চোখে দেখেছিলেন। পাকিস্তানের ভেতর থেকেই বার বার উঠেছে, ম্যাচটি ছিল পাতানো। এবার ১৬ বছর পর এসে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং কোচ জাভেদ মিয়াঁদাদ দাবি করলেন, বাংলাদেশের কাছে ইচ্ছে করেই হেরেছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছেও ইচ্ছে করে হেরেছিল পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।

১৯৯৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তানের কোচ ছিলেন জাভেদ মিয়াঁদাদই। তার কোচিংয়ের সময়ই দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল। ইচ্ছা করে ম্যাচ হারের কয়েকটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন তিনি। এমনকি তখনকার পিসিবি চেয়ারম্যান খালিদ মেহমুদের কাছে অভিযোগও করেছিলেন বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের নামে।

কিন্তু; পিসিবি চেয়ার মিয়াঁদাদের অভিযোগ আমলেই নেননি। বরং, দুর্নীতি আর পাতানো ম্যাচ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে, পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। যে কারণে, বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে জোর করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয় মিয়াঁদাদকে। তার পরিবর্তে দায়িত্ব দেয়া হয় মোস্তাক মোহাম্মদকে।

এতদিন পর পাকিস্তানের দৈনিক জং পত্রিকাকে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি বেশ কয়েকবার পিসিবি চেয়ারম্যানকে সতর্ক করেছিলাম। বলেছিলাম দুর্নীতিগ্রস্থ এসব ক্রিকেটারের বিপক্ষে এখনই কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে পাকিস্তানকে। এমনকি অপূরনীয় ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেটের।

মিয়াঁদাদ বলেন, ১৯৯৯ সালের ওই ম্যাচ ফিঙিংয়ের ঘটনাগুলোই পাকিস্তান ক্রিকেটের ভিত্তি নষ্ট করে দিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ভালোমানের ক্রিকেটার উঠে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর হলেও আমার সেই কথাগুলোই এখন সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান চেহারার দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।

১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে শরাজায় অনুষ্ঠিত একটি টুর্নামেন্ট চলাকালীন ড্রেসিং রুমেই ২ জন সিনিয়র ক্রিকেটার মিয়াঁদাদের দিকে ব্যাট নিয়ে তেড়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। দুর্নীতি এবং পাতানো ম্যাচের সঙ্গে জড়িত হওয়ার কারণে ওই সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মিয়াঁদাদ। এমনকি অভিযোগ রয়েছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ফিঙিং করেছিলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। অথচ ক্রিকেটাররা দাবি করেছিলেন, তাদের কিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ করেছেন কোচ মিয়াঁদাদ।

গত সপ্তাহেই সাবেক পিসিবি চেয়ারম্যান খালিদ মেহমুদ বলেছিলেন, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে কোচ পরিবর্তন করেছিলাম, কারণ পাকিস্তানের দল নির্বাচনে আরও বেশি ক্ষমতা চেয়েছিলেন মিয়াঁদাদ, এ কারণে।

তারই জবাব দিয়েছেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, খালিদ মেহমুদ যেটা বলেছেন সেটা মোটেও সত্য নয়। আসল সত্য হলো, তখন পাকিস্তান দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ফিক্সিং করে ম্যাচের ফল পরিবর্তন করে দিচ্ছিল। আমি তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম, না হয় ভবিষ্যতে পুরো পাকিস্তানের ক্রিকেটকেই এ জন্য ভুগতে হবে। কিন্তু তিনি আমার কথা বিশ্বাস করেননি। এখন দেখুন, পাকিস্তান ক্রিকেটের কী অবস্থা। আমার সে কথাগুলোই এখন সত্য পরিণত হচ্ছে।

এরপর মিয়াঁদাদ বলেন, বিশ্বকাপের কয়েকবছর পর আমার কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাঈদ আনোয়ার এবং স্বীকার করেছিলেন তারা কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার জুনিয়রদেরকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল আমার বিরুদ্ধে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এবং ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইচ্ছাকৃত হারের বিষয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ওই খেলোয়াড়রাই গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের কাছে ইচ্ছা করে হেরেছিল। এমনকি ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিন কী ঘটেছিল সেটা সবাই দেখেছে। যা ইতিহাসেরই অংশ হয়ে থাকবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.