Search
Thursday 12 December 2019
  • :
  • :

৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ

৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১১ আগস্ট : ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্স দল। আজ শনিবার দলটির দুই সংসদ সদস্য আকবর লোন ও হাসনাইন মাসুদি আদালতে এ সংক্রান্ত আবেদন করেন। তারা জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন ২০১৯ অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করার আবেদন জানিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে জানানো আবেদনে বলা হয়েছে, বিধানসভার সুপারিশ ছাড়া ৩৭০ ধারা বাতিল করা অসাংবিধানিক। এ সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের আদেশ বাতিল করা হোক।

ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ এই মুহূর্তে গৃহবন্দি। দলটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ উপত্যকার অনেক নেতার মতোই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়েও প্রশাসন তুমুল গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৮০০ রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। যদিও এসবের মধ্যেই ন্যাশনাল কনফারেন্সের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে ৩৭০ ধারা বাতিলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হলো।

এদিকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান দেয়ার অভিযোগে গতকাল শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বতন্ত্র বিধায়ক ইঞ্জিনিয়ার রশিদকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ। আজ শনিবার তাকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হলে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়া হয়। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে টাকা পেয়ে উপত্যকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ইঞ্জিনিয়ার রশিদ সেই লেনদের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার কাশ্মীরে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে এবং তাতে কমপক্ষে ১০ হাজার লোক শামিল হয়েছেন বলে কোনও কোনও গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। আজ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে ওই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অতিরঞ্জিত বলে জানানো হয়েছে। শ্রীনগর ও বারামুলায় কিছু বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ হলেও কোনওটিতেই ২০ জনের বেশি লোক জমায়েত হননি বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধা বাতিল করে ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। দেশটির সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে জম্মু ও কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধা বাতিল করে এটির রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেয়া হয়। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।