ঝিনাইদহ, ১৮ সেপ্টেম্বর : রয়েলের বয়স ১১ মাস। বুধবার রাতে তার বাবাকে ধরতে গিয়েছিল পুলিশ। না পেয়ে ধরে নিয়ে আসে তার মাকে, সঙ্গে তাকেও। এরপর মা ও শিশুপুত্রকে ১৯ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় থানাহাজতে। ঘটনাটি ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার।

রয়েলের বাবা রাজু আহম্মদের অভিযোগ, স্ত্রী-সন্তানকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে ৪২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে পুলিশকে। তবে পুলিশের অভিযুক্ত কর্মকর্তা এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছুই বলছেন না।

মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা রাজু আহম্মদ বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, তার নামে একটি মামলা ছিল। তবে ১৬ দিন আগে তিনি ওই মামলায় আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বুধবার রাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একই উপজেলার লাটিমা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। রাত ৮টার দিকে মহেশপুর থানার টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (টিএসআই) আমির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে যায়। পুলিশ তার নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। তারা তাকে আটক করতে না পেরে তার স্ত্রী ও ১১ মাসের ছেলে রয়েলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

রাজুর অভিযোগ, আটকের সময় তার স্ত্রীকে মারধর করা হয়। নারী পুলিশ না থাকায় পুরুষ পুলিশরা সন্তানসহ তার স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যান। বুধবার রাতে তার স্ত্রী-সন্তানকে থানাহাজতে আটকে রাখা হয়। এরপর গতকাল সকালে থানার টিএসআই আমির হোসেন তাদের ছাড়তে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে ৪২ হাজার টাকা দিয়ে বেলা তিনটার দিকে তাদের মুক্ত করেন। ধারদেনা করে টাকার জোগাড় করে চাচা আবদুল আজিজের হাত দিয়ে টাকা পৌঁছে দেন।

আবদুল আজিজ এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজু মোবাইলফোনের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকার চুক্তি করেন। তিনি টাকা নিয়ে থানায় যান। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তা আমিরের হাতে টাকা তুলে দিয়ে বৌমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিএসআই আমির হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, রাজু আহম্মদ মামলায় জামিন নিলেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। যে কারণে তাকে আটক করতে গিয়েছিলাম। পুলিশ দেখে রাজু পালিয়ে যান। এরপর তার স্ত্রীকে একা অন্যের বাড়িতে রেখে আসলে কেমন হয়, তাই নিরাপত্তার জন্য মা-ছেলেকে থানায় এনে রাখা হয়।
টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হোসেন পরে কথা বলবেন বলে জানান। বারবার প্রশ্ন করলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাতে এড়িয়ে যান। -প্রথম আলো

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *