Search
Thursday 19 May 2022
  • :
  • :

সাংবাদিক ফজলুর রহমান হত্যাচেষ্টা মামলার বিচার শুরু

সাংবাদিক ফজলুর রহমান হত্যাচেষ্টা মামলার বিচার শুরু

পাবনা : দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর পাবনা প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সম্পাদক এ বি এম ফজলুর রহমান হত্যাচেষ্টা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। ফজলুর রহমান দৈনিক সমকাল ও এনটিভির পাবনা কার্যালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক।

বুধবার দুপুরে পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট মুন্সী রফিউল আলমের আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। বিচারক প্রথমে মামলার বাদী এ বি এম ফজলুর রহমানের সাক্ষ্য নেন।

মামলার সাক্ষ্যদানকালে এ বি এম ফজলুর রহমান আদালতকে জানান, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মোল্লা কফিল উদ্দিন সাংবাদিক ফজলুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এজন্য টাকার বিনিময়ে সুজনসহ ছয়জন পেশাদার খুনিকে ভাড়া করে। হত্যা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে মোবাইলে ফোন করে ফজলুর রহমানকে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ডেকে নেওয়া হয়। ফজলুর রহমান ও তার সহকর্মী মাছরাঙা টেলিভিশনের পাবনা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম রিজু এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষক ডরমেটরির সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা ফজলুর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি, ছুরি, ডেগার ও হাসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রায় এক মাস পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন তিনি।

হামলার খবর পেয়ে ওই দিন পাবনার সাংবাদিকরা পাবনা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সে সময় পাবনায় অবস্থানরত তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স দ্রুততম সময়ে সাংবাদিক ফজলুর রহমানের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে ২০১২ সালের ২২ জুন শালগাড়িয়া টিবি ক্লিনিক এলাকার কাজী আনোয়ার হোসেনের ছেলে হামলাকারী কাজী সালাউদ্দিন ওরফে সুজনকে (২৭) পুলিশ গ্রেফতার করে। ফজলুর রহমান থানায় গিয়ে আক্রমণকারীকে শনাক্ত করেন। সাংবাদিক ফজলুর রহমান সাক্ষ্যদানকালে সব আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন।

২০১২ সালের ২০ মে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলা করেন সাংবাদিক ফজলুর রহমান। এই দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছরে পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা এই মামলা তদন্ত করেন। পরে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পাবনা সদর থানার দারোগা অরবিন্দ সরকার শহরের শালগাড়িয়া মালিগলি স্কুল পাড়ার মোল্লা মো. কফিল উদ্দিন (৪৫), টিবি ক্লিনিক পাড়ার কাজী সালাউদ্দিন ওরফে সুজন (২৮), রাধানগরের মো. আব্দুল আলীম (২৫), শ্রী ষষ্টি (২৪), মনির হোসেন বাবু (২৬) এবং শালগাড়িয়া গোলাপবাগের সবুজ হোসেনকে (২৫) অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় ২১ জনকে সাক্ষী করা হয়।

আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাজাহান ম-ল, অ্যাডভোকেট তৌফিক ইমাম খান, অ্যাডভোকেট মো. হাসান আলী হাসান, অ্যাডভোকেট মোসফেকা জাহান কনিকা সাংবাদিক এ বি এম ফজলুর রহমানকে জেরা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি অ্যাডভোকেট পলাশ।

পাবনা জেলা সংবাদপত্র পরিষদ সভাপতি, বিটিভি প্রতিনিধি ও দৈনিক জোড় বাংলা সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক আহমেদ উল হক রানা, যুগ্ম-সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, দফতর সম্পাদক এস এম আলাউদ্দিন, দৈনিক যুগান্তর ও চ্যানেল আই প্রতিনিধি আখতারুজ্জামান আখতার, সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, বার্তা সংস্থা পিপ‘র স্টাফ রিপোর্টার আরমান আলী ও যুবনেতা আবুল হোসেন, সাহারা ক্লাবের সভাপতি আতাউর হোসেন পিন্টু এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published.