বিনোদন ডেস্ক, ৬ অক্টোবর : পথের পাঁচালী ছবির দৃশ্যসত্যজিৎ রায় তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই পেয়ে গিয়েছিলেন দুনিয়াজোড়া খ্যাতি। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস থেকে নির্মিত পথের পাঁচালীর শিশু চরিত্র অপু নজর কাড়ল সবার। এই ছবির বিশ্বব্যাপী সাফল্যের কারণে সত্যজিৎ পরে আরও দুটি ছবি বানালেন—অপরাজিত ও অপুর সংসার। ছবিগুলোয় বালক ও যুবক অপুকে দেখা যায়। দর্শক-সমালোচক মহলে তিনটি ছবিই পেল সমাদর।

বাংলা চলচ্চিত্রে ‘অপুত্রয়ী’র স্থান কী, বাঙালিমাত্র তা জানেন। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এসব পুরোনো কথা আবার তোলা কেন? উত্তর হলো, এশিয়ার সর্বকালের সেরা ১০০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘অপুত্রয়ী’ স্থান করে নিয়েছে। বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চলতি আসরে প্রকাশিত ‘এশিয়ান সিনেমা ১০০’–এর তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ‘অপুত্রয়ী’।

মেঘে ঢাকা তারা ছবির দৃশ্য২০তম আসরটি শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর, চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এই আসর থেকে সেরা ১০০ এশীয় ছবির তালিকা প্রকাশ শুরু হলো। পাঁচ বছর পরপর এই তালিকা প্রকাশিত হবে। উদ্দেশ্য এশিয়ার সেরা ছবিগুলো এবং সেগুলোর পরিচালকদের সবার সামনে নিয়ে আসা।

সত্যজিৎ ছাড়া আরও এক বাঙালি নির্মাতার নাম আছে এই তালিকায়। তালিকার ১৯ নম্বরে আছে ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা। শক্তিপদ রাজগুরুর লেখা উপন্যাস থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল এই ছবি। সত্যজিৎ রায়ের আরও দুটি ছবি আছে এই তালিকায়। ১৮ নম্বরে রয়েছে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটগল্প থেকে নির্মিত জলসাঘর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নষ্টনীড়’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত ছবি চারুলতা রয়েছে ৩৯ নম্বরে।

এশিয়ার সর্বকালের ১০০ চলচ্চিত্র তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১৯৫০ সালে নির্মিত জাপানের ইয়াসুজিরো অজুর ছবি টোকিও স্টোরি। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে একই বছর নির্মিত আকিরা কুরোসাওয়ার ছবি রশোমন। তৃতীয় সেরা ছবি হংকংয়ের ইন দ্য মুড ফর লাভ, নির্মাতা ওং কার ওয়াই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *