Search
Saturday 19 January 2019
  • :
  • :

সমুদ্রের ঢেউয়ে ঘুম ভাঙছে না শিশুটির

সমুদ্রের ঢেউয়ে ঘুম ভাঙছে না শিশুটির

ঢাকা : শিশুটির বয়স হতে পারে বছর খানেক। কিংবা তার চে’ কিছু দিন বেশি। বাঁ দিকে উপুড় হয়ে চোখ বুজে শুয়ে আছে শুভ্র শিশু। গায়ে ভেজা লাল শার্ট, নেভি-ব্লু হাফ প্যান্ট আর পা জোড়ায় ছোট্ট জুতা। দেখে মনে হবে ঘুমিয়ে আছে। চারপাশে খেলা করছে পবিত্র এক আভা। কিন্তু বাস্তবে এ এক ভিন্ন দৃশ্য। তার নিথর প্রাণহীন দেহের চারপাশে সমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। তার মাথা খানিকটা ডেবে গেছে সৈকতের বালিতে। এই শিশুটিই ভূমধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া ১২ জন ইউরোপগামী

অভিবাসন-প্রত্যাশীর একজন। বিশাল সমুদ্রেরও হয়তো নিজের ভেতর তাকে ধারণ করতে বুক কাঁপছিল। এজন্যই ঢেউয়ের তোড়ে সৈকতে ঠেলে দিয়েছে তার দেহকে। আর শিশুটির এমন ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘ভাসমান ধ্বংসপ্রাপ্ত মানবতা’র প্রতিচ্ছবি হিসেবে। এ খবর দিয়েছে সিএনএন।

কেউ বলছেন, তাদের আশা ছিল, এ ছোট ছেলেটির নিস্তেজ শরীরের ছবিটির কারণে ইউরোপগামী শরণার্থীদের স্রোত মোকাবেলার উপায় নিয়ে চলমান বিতর্ক একটি গুরুত্বপূর্ন মানবিক বাঁক নেবে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে রাজনীতিকদের ব্যার্থতা দেখিয়ে দেবে ছবিটি। আত্ম-ব্যার্থতায় দগ্ধ হবে কিছুটা মানবিক হবেন দোর্দ- প্রতাপশালীরা। কিন্তু অচিরেই তারা বুঝেছেন, আশা কুহকিনী বৈ অন্য কিছু নয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উপ-পরিচালক নাদিম হওরি ছবিটিকে বলছেন, ‘গা ছমছমে’। আসলেই তাই। এ ছবি হয়তো অনেকদিন তাড়িয়ে বেড়াবে বিশ্বজুড়ে অসংখ্যা মানবতাবাদীকে। নাদিমের মতে, এটিই সামগ্রিক ব্যার্থতার সবচেয়ে ¯পষ্ট প্রতিবিম্ব। তুরস্কের বুরহান আকমান শুধু লিখেছেন, গোটা পৃথিবীর জন্য একরাশ লজ্জা। আমি ছবিটিতে শুধু মানুষ দেখছি, মানবতার ছোঁয়া দেখছি না।

এখন পর্যন্ত শিশুটির নাম জানা যায়নি। কেউ জানে না, তার যাত্রা শুরু হয়েছিল কোথা থেকে। তবে তুরস্কের মুগলা প্রদেশের গভর্ণরের কার্যালয় বলেছে, একদল সিরিয়ান শরণার্থীদের সঙ্গে ছিল শিশুটি। দুইটি নৌকায় করে তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিক দ্বীপ কোসে পৌঁছতে চেয়েছিলেন। নৌকার কয়েকজনকে উদ্ধার করতে পেরেছে তুরস্কের উদ্ধারকারী দল। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই দলের ২ পুরুষ ও ১ শিশু নিখোঁজ।

প্রসঙ্গত, ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়ে কেবল এ বছরই মারা গেছে ২৬০০ জনেরও বেশি। বিশ্বে এ বছর যত অভিবাসী বা অভিবাসন-প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, গড়ে তাদের চার জনের তিন জনই মারা গেছেন ভূমধ্যসাগরে। গত বছরের (২২২৩) চেয়ে এ বছর মৃত্যুর পরিমাণ ২০ শতাংশ বেশি। এদের কেউ ডুবে গেছেন অতল সমুদ্রে। কেউবা মারা গেছেন পদপিষ্ট হয়ে। কেউ আবার নৌকার ইঞ্জিনের ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে না পেরে। নাম না জানা ওই শিশুটিও হয়তো এদের কোনো এক দলের হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *