Search
Wednesday 15 August 2018
  • :
  • :

সফল উৎক্ষেপণের প্রতীক্ষা

সফল উৎক্ষেপণের প্রতীক্ষা

ঢাকা, ১২ মে : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশনে সবকিছুই আগের মতই প্রস্তুত। সেখান থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

শুক্রবার রাতে এক টুইট বার্তায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স জানিয়েছে, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফ্যালকন ৯ উৎক্ষেপণের জন্য সব ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে। আজ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (ফ্লোরিডার স্থানীয় সময়, বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিট) এবং ওই সময়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ উপযোগী রয়েছে।’

সবার প্রত্যাশা, আগের দিনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। এবার সফল হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটবাহী রকেট ফ্যালকন-৯-এর উৎক্ষেপণ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিচালনায় নবগঠিত কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে টেলিফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, নতুন নির্ধারিত সময় অপরিবর্তিত রয়েছে। একটি সফল উৎক্ষেপণের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রতীক্ষায় সবাই।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে রওনা হওয়ার প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্যালকন-৯ তিনশ’ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। প্রথম ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় অতিক্রম করবে ৩৫ হাজার কিলোমিটার পথ। উৎক্ষেপণ যানটি তিন হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করার পর থেকেই গাজীপুরে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে সেটির অবস্থান দেখা যাবে। এ সময় থেকে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ কাজ শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি পরিচালনাও করবে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

সাইফুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পৌঁছতে সময় লাগবে আট থেকে দশ দিন। তবে এটি পুরোপুরি কক্ষপথে স্থাপিত হয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী হতে সময় লাগবে অন্তত দু’মাস।

এদিকে বৃহস্পতিবার শেষ রাতের উৎক্ষেপণ কেন স্থগিত হলো তা জানতেও সবার মধ্যে ছিল বিপুল আগ্রহ। শুক্রবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উড়বেই। প্রথম প্রচেষ্টায় উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়া সম্পর্কে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসেবে যদি একটু এদিক-সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামীকাল (শুক্রবার রাতে) একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরনের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুব সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৪টা ২৫ মিনিটে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানায়, গ্রাউন্ড স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণ ‘অ্যাবোর্ট’ সিগন্যাল বা স্থগিতের বার্তা দেয়। তবে স্যাটেলাইট এবং উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ সম্পূর্ণ সচল ও উৎক্ষেপণ উপযোগী রয়েছে। ১১ মে পূর্বনির্ধারিত সময়ে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ দেশ থেকে রওনা দেওয়ার আগে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে কোনো তারিখ বা সময়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করা যায় না। কারণ শেষ মুহূর্তের ক্ষণ গণনার সময় উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার অনেক নজির রয়েছে।

আগের দিন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ না হলেও শুক্রবার দেশবাসীর উচ্ছ্বাসে খুব একটা ভাটা দেখা যায়নি। বরং তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন নতুন নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। তারাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন সফল উৎক্ষেপণ দেখার জন্য।

ফ্লোরিডা থেকে এনআরবি নিউজ জানায়, শেষ মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ আরও এক দফা পিছিয়ে গেলেও প্রবাসীদের মধ্যে উৎসব আমেজে তেমন ভাটা পড়েনি। তবে ফ্লোরিডার বাইরে থেকে যারা এসেছেন তাদের ফ্লাইট তারিখ পরিবর্তনসহ হোটেলে বুকিং বাড়াতে হয়েছে।

ফ্লোরিডায় উৎক্ষেপণস্থলে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার সঙ্গে আছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

এর আগে ফ্লোরিডায় উপস্থিত তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সেখানে সাংবাদিকদের জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে লেখা থাকছে ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান। এর আগে যখন তিনি ফ্রান্সে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের কারখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তখনই স্যাটেলাইটের গায়ে এ স্লোগানটি লিখে এসেছিলেন। সেই স্লোগান বুকে নিয়েই মহাকাশে ঠাঁই করে নিচ্ছে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরির স্যাটেলাইট। অর্থাৎ, এটি যোগাযোগ এবং সম্প্রচার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হবে। এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। এর মধ্যে ২৬টি হচ্ছে কেইউ ব্যান্ডের এবং ১৪টি সি ব্যান্ডের। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার প্রায় ৩৬ মেগাহার্টজ বেতার তরঙ্গের সমপরিমাণ। অর্থাৎ, ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ মেগাহার্টজ পরিমাণ বেতার তরঙ্গ। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত হয়েছে পৃথক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি। সূত্র: সমকাল