Search
Wednesday 26 June 2019
  • :
  • :

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত এমপিরা

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত এমপিরা

ঢাকা, ৩ জানুয়ারি : শপথ নিয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৮৯ জনপ্রতিনিধি।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

শপথ অনুষ্ঠানের শুরুতে বিধান অনুযায়ী নিজের কাছে নিজে শপথ নেন রংপুর-৬ আসন থেকে নবনির্বাচিত এমপি শিরিন শারমীন চৌধুরী। এরপর তিনি শপথপত্রে সই করেন।

পরে তিনি দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংখ্যগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের শরিক দলের কয়েকজন এমপি শপথ নেন।

এরপর দ্বিতীয় দফায় রওশন এরশাদের নেতৃত্বে শপথ গ্রহণ করেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপিরা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিকেলে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও শপথ নেননি। এছাড়া অসুস্থতার কারণে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম শপথ নিতে পারেননি। অন্যদিকে শপথ নেননি বিএনপি ও গণফোরাম তথা ঐক্যফ্রন্টের সাত এমপি।

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহেমদ খান শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। শেরে বাংলা নগরে সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথ কক্ষে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়।

শপথের পর নিয়ম অনুযায়ী পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় দলনেতা নির্বাচিত হবেন। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন যে, তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে জাতীয় সংসদে। এসময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন তাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্যে। তারপর গঠিত হবে নতুন সরকার।

শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকেই নতুন এমপিরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে থাকেন। তাদের সঙ্গে কর্মী সমর্থকরাও আসেন সংসদ ভবনে। এসময় নতুন এমপিদের কর্মী-সমর্থকদের পদচারণায় সংসদ ভবন এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর ২৯৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৯৮ আসনের ফলাফলের মধ্যে মহাজোট পেয়েছে ২৮৮ টি আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৫৭ আসন পেয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২২টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ৫টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ২টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ২টি, গণফোরাম ২টি, জাতীয় পার্টি-জেপি ১টি এবং তরিকত ফেডারেশন ১টি করে আসনে বিজয়ী হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে তিন জন স্বতন্ত্র সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ব্রাক্ষণবাড়িয়া-২ আসনের তিনটি কেন্দ্রে পুননির্বাচন করতে হবে বলে সেখানে ফলাফল স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া গাইবান্ধা-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন হয়নি।

এর আগে বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৮ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করা হয়। তার পরের দিন ৯ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন নির্বাচিত সদস্যরা। আর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জানুয়ারি।