Search
Monday 18 November 2019
  • :
  • :

রোহিতের শহরে সিরিজ জয়ের চ্যালেঞ্জ

রোহিতের শহরে সিরিজ জয়ের চ্যালেঞ্জ

স্পোর্টস ডেস্ক, ৯ নভেম্বর : রাজকোট থেকে চার্টার্ড প্লেনে সকাল ১১টায় উড়াল দেওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ এবং ভারতের ক্রিকেটাররা নাগপুরের উদ্দেশে রওনা দেন দুপুর দেড়টায়। স্বাভাবিকভাবে নাগপুরে পৌঁছাতে হয় বিলম্বে। একদিকে রাজকোটে সিরিজ জিততে না পারার হতাশা, অন্যদিকে বিমান বিলম্ব ক্রিকেটারদের মনে বিরক্তির সৃষ্টি করে। যদিও খেলার বাইরের এই সমস্যা মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে মাহমুদুল্লাহ ছোটোখাটো সমস্যা হজম করে আজ নাগপুরে প্রস্তুতি নেবেন টি২০র সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচের জন্য। সকাল ১০টা থেকে ভিদারভা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন টাইগারদের। স্বাগতিক ভারতের অনুশীলন আগের নিয়মে দুপুর থেকে। টি২০ ম্যাচ রাতের খেলা হলেও এখন পর্যন্ত বিকেলে অনুশীলনের সুযোগ পায়নি টিম বাংলাদেশ। এর পরও গত দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স খুব একটা খারাপ হয়নি। দিল্লিতে জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করলেও রাজকোটে দ্বিতীয় টি২০তে হেরে যায় ভারতের কাছে। এক একে সমতার সিরিজের নিষ্পত্তি হবে নাগপুরে। রোহিত শর্মার হোম ভেন্যুর ম্যাচটি রূপ নিয়েছে অলিখিত ফাইনালে। যেখানে বিজয়ের হাসি হাসতে চায় টাইগাররা।

বাংলাদেশ চেয়েছিল রাজকোটে সিরিজ জিততে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ম্যাচে দল হিসেবে সমন্বিত পারফরম্যান্স করতে না পারায় ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হারে। মাহমুদুল্লাহর দাবি, সিরিজ ১-১ সমতা এলেও আত্মবিশ্বাস হারাননি তারা। বরং নাগপুরে অলিখিত ফাইনাল ম্যাচটি জিততে উন্মুখ হয়ে উঠেছে দলের সবাই। গতকাল শফিউল ইসলামও লড়াই করার ঘোষণা দেন দলীয় প্রতিনিধি হিসেবে, ‘আমরা ভালো ক্রিকেট খেললে অবশ্যই আমাদের এখনও সুযোগ আছে। প্রথম ম্যাচটা যে রকমভাবে খেলেছি, সে রকম যদি খেলতে পারি, তাহলে জিততে পারব। এই ম্যাচে ছোট ছোট কিছু ভুল ছিল, পরের ম্যাচে সেগুলো না করলে সিরিজ জেতা সম্ভব। আশা করি, আমরা দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়াব। আমরা সিরিজ জেতার জন্যই খেলব।’

রাজকোটের মতো নাগপুরের মাঠ বড়। এই ভেন্যুতেও ব্যাটিং ট্র্যাক দেওয়া হবে। যেখানে রোহিত শর্মাদের সুযোগ থাকবে বেশি। কারণ তারা বড় শট খেলতে পারেন। ইনিংসের প্রতিটি ধাপ সুশৃঙ্খলভাবে কাজে লাগাতে পারেন তারা। বড় শটস খেলার মতো যথেষ্ট ব্যাটসম্যান আছে তাদের। আঁটসাঁট বোলিং করতে না পারলে ব্যাটিং স্বর্গে ভারতকে আটকে রাখা কঠিন। আবার ব্যাটিংয়েও টাইগারদের দুর্বলতা বড় শটস খেলতে না পারা। গ্যাপ শট খেলে বাউন্ডারি নেওয়ার মতো প্র্যাকটিস টাইগার স্কোয়াডের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানের নেই। স্লগ ওভারে পাওয়ার হিট দেখা যায় না। শেষ পাঁচ ওভার থেকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আফিফ হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের কাছ থেকে বেশি রান আশা করাও বোকামি হবে। কারণ কম বল খেলে বেশি রান তোলার কৌশল এখনও ভালোভাবে রপ্ত করতে পারেননি তারা। নাগপুরে জিততে হলে মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদুল্লাদেরই দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেলতে হবে। লিটন কুমার দাস, নাঈম শেখ, সৌম্য সরকাররা আরও দায়িত্বশীল হলে ভালো করবেন। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে দল পুনর্গঠনের জন্য একটা দিন পাচ্ছেন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখরনের ওপরও নির্ভর করছে নাগপুরে সাফল্য পাওয়ার বিষয়টি। টাইগারদের ভারতীয় এ ভিডিও অ্যানালিস্ট প্রতিপক্ষ দলের দুর্বল এবং সবল দিকগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজে দেবে। শফিউল জানালেন, পরের ম্যাচে পেস বোলিং ইউনিট হিসেবে খেলার চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত, ‘আমরা যে তিনজন পেস বোলার আছি, আমরা সাধারণত মূল ওভারগুলোতে, পাওয়ার প্লেতে কিংবা শেষের চার-পাঁচ ওভারে বেশি বল করি। প্রথম ম্যাচের মতো পেস বোলাররা যদি ভালো করতে পারি, একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারি, ওদের যদি কম রানে আটকে দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে ব্যাটসম্যানদের জন্য সুবিধা হবে। জেতার সুযোগ থাকবে।’ বাস্তবতা হলো, ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে যে দৃঢ়তা দেখাচ্ছেন, মাঠের খেলায় তার প্রতিফলন ঘটানো কঠিন। তার ওপর গত ম্যাচ জিতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রোহিত শর্মার ভারত। -সমকাল