Search
Tuesday 17 May 2022
  • :
  • :

‘রেশম শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দিতে হবে’

‘রেশম শিল্পের উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দিতে হবে’

অর্থনৈতিক ডেস্ক: ‘অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রেশম বা সিল্কের পোশাকের বিরাট বাজার রয়েছে। এরপরেও অবহেলা আর অযত্নে শেষ হয়ে যাচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্প। এ জন্য সিল্ক খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি পণ্যের মান বাড়াতে হবে। উদ্যোক্তাদের প্রণোদনাসহ সহায়তা দিতে হবে। দেশের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

রাজধানীর মতিঝিলে দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ভবনের কনফারেন্স হলে রেশমশিল্পের রপ্তানি সম্ভাবনা শীর্ষক এক সেমিনারে শনিবার বক্তারা এসব কথা বলেন।

এফবিসিসিআই ও জার্মানির ফ্রেডরিক ন্যূম্যান ফাউন্ডেশন (এফএনএফ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে সিল্ক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির প্রো-ভিসি ড. আইয়ুব নবী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ (বস্ত্র সেল) রুহুল আমিন, ব্র্যাক ও আড়ংয়ের প্রতিনিধি মেজর (অব) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বক্তব্য দেন।

সেমিনারে এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ২০১৭ সালের মধ্যে সিল্ক শিল্পখাতকে ৫০০ কোটি টাকার বাজারে উন্নীত করা হবে। ঐতিহ্যবাহী সিল্ক শিল্পখাতটি অর্থনৈতিক মানদণ্ডে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে এ শিল্পের বাজারটি মাত্র সাড়ে ৭ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আগামী এক বছরের মধ্যে এ শিল্পে ১০০ কোটি টাকার ব্যাংক লোনের সাপোর্ট দেওয়া হবে। আর আগামী দেড় বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের মধ্যে এ খাতকে ৫০০ কোটি টাকার বাজারে উন্নীত করা হবে।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, গার্মেন্টস পণ্যের সঙ্গে সিল্ক পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে গার্মেন্টস পণ্যেও সিল্কের ব্যবহার করুন।

সিল্ক পণ্য উৎপাদনকারীদের উদ্দেশে মাতলুব বলেন, নকলের ভিড়ে আসল সিল্ক হারিয়ে যাচ্ছে। আপনারা আমাদেরকে ভালো মানের পণ্য দিন, আমরা আপনাদেরকে বড় একটি বাজার সৃষ্টি করে দেবো।

এসময় তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আপনারা (সিল্ক ব্যবসায়ীরা) আসুন। আমরা আমাদের পণ্যের সাথে আপনাদের পণ্য রেখে ক্যাটালগ তৈরী করবো। ভালো মানের পণ্য বানাতে পারলে সিল্ককে বাংলাদেশের আরেকটি ব্র্যান্ডিং হিসাবে দাঁড় করানো যাবে।

সেমিনারে বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লেয়াকত আলী বলেন, ২০০৫ সালে জাতীয় রেশম নীতি করা হয়েছে। তা এখানো বাস্তবায়ন করা হয়নি। দেশে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ১১টি বাগান রয়েছে; এগুলো প্রাইভেট সেক্টরে দিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে এগুলোকে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে আরও বাণিজ্যিক করে তুলতে হবে।

তিনি জানান, এ শিল্পের প্রসারে সারাদেশে অন্তত ৩০ জন উদ্যোক্তা প্রয়োজন। এখন এটি শুধু রাজশাহীর ভোলাহাটে মাত্র গুটি কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সারাদেশে এ শিল্পের উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে সিল্ক রপ্তানি করা যাবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফএনএফ’র কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিভ ড. নাজমুল হোসাইন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের সিল্ক শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এ শিল্পের দিকে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সুনজর দেওয়া দরকার।

 

 




Leave a Reply

Your email address will not be published.