ঢাকা, ৫ নভেম্বর : বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী বলেছেন, সে দেশের সুন্দরবনে বাঘের চোরাশিকারিরা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পাচ্ছে আর সে কারণেই বাঘ নিধনের ঘটনা এত বাড়ছে।

বাঘ সংরক্ষণের উপায় নিয়ে সরকারের বন বিভাগ ঢাকায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এদিন এক আলোচনাসভার আয়োজন করেছিল, সেখানেই পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ওই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি ক্যামেরা-ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাংলাদেশে যে বাঘ গণনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে তাতে দেখা গেছে বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা এখন মাত্র ১০৬টি।

অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও ধারণা করা হত বাংলাদেশে প্রায় শচারেক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার আছে। সম্প্রতি চোরাশিকারীদের হাতেও বেশ কিছু বাঘ হত্যার প্রমাণ মিলেছে।

এই পটভূমিতেই পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু চোরাশিকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কথা উল্লেখ করেন।

পরে তিনি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি নিজে সুন্দরবন এলাকারই লোক। ওখানে সবাই জানে এই চোরাশিকারিরা কাদের প্রশ্রয় পায়। এদের কেউ স্পর্শ করতে পারে না পর্যন্ত!’

সুন্দরবন এলাকার ডাকাত বা জলদস্যু বলে যাদের বলা হয়, এলাকায় তাতের বেশির ভাগই আসলে অপরিচিত নয় বলে মন্ত্রী দাবি করেন।

এমন কী বন বিভাগের প্রহরীরাও সব জেনেশুনেও ভয়ে এই চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারে না- উল্টে বনরক্ষীদেরই তাদের কথা শুনতে হয় বলে জানান পরিবেশমন্ত্রী।

তবে এই অবস্থা আজকের নয় – সুন্দরবনে বহুকাল ধরেই এ ঘটনা ঘটে আসছে বলে মি হোসেনের দাবি। তাঁর কথায়, ‘বাঘের চোরাশিকার ঠেকাতে র‍্যাব-পুলিশ-বিজিবি এমন কী নৌবাহিনী পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে; কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই।’

সরকার ঢাকায় বসে যেই সিদ্ধান্তই নিক, সুন্দরবনের দুর্গম খালবিলের অন্দরে বা জঙ্গলের ভিতরে ‘সম্পূর্ণ অন্য ঘটনা ঘটে যায়’ বলেও স্বীকার করেছেন পরিবেশমন্ত্রী।

যারা চোরাশিকারিদের মদত দেয়, তারা কেউ ‘সুন্দরবনের ধারেকাছেও থাকে না’ বলেও মন্তব্য করেছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে চোরাকারবার ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা আর অসহায়তাই কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি, তবে সেই সঙ্গেই বলেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা এ ব্যাপারে এবারে কিছু করতে পারবেন বলেই তিনি আশাবাদী।

মি হোসেনের কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেও পুরো ব্যাপারটা জানেন। তিনি সম্প্রতি বাঘ চোরাশিকার ঠেকাতে খুব শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তাই আমি আশাবাদী হয়তো এই যোগসাজশ এবার ভাঙলেও ভাঙতে পারে!’  সূত্র : বিবিসি বাংলা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *