Search
Sunday 28 February 2021
  • :
  • :

যে ইচ্ছা পূরণ হলো না এটিএম শামসুজ্জামানের

যে ইচ্ছা পূরণ হলো না এটিএম শামসুজ্জামানের

বিনোদন ডেস্ক : সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। কিংবদন্তির বিদায়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে উঠেছে শোবিজ অঙ্গন। কয়েক দফায় অসুস্থ ছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়েছিলেন। বাসায় ফিরে বিশ্রামেও ছিলেন। কিন্তু এবার আর তাকে আটকানো গেল না। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে পুরান ঢাকার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি।

অভিনয় জীবনে প্রাপ্তির খাতায় তার কোনো অপূর্ণতা ছিল না। দর্শক প্রশংসার পাশাপাশি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আজীবন সম্মাননা ও একুশে পদকসহ বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তারপরও জীবনের শেষদিকে তিনি একটি ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না আর। পরপারে পাড়ি দিলেন বরেণ্য অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান।

একটি সাক্ষাৎকারে এটিএম শামসুজ্জামান বলেছিলেন, অনেক সিনেমার গল্প লিখেছি। নাটক-সিনেমায় অনেক অভিনয় করেছি। দর্শক আমাকে অভিনেতা হিসেবেই ভালোবাসেন। এবার আমি এমন একটি সিনেমা বানাতে চাই, যা দর্শককে উদ্দীপ্ত করবে।

বিশেষ কাউকে পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে এই অভিনেতা বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে চিত্রনাট্যে তুলে ধরার পরিকল্পনা আছে। আমার এই স্বপ্নটা এখনো আছে। জীবনের শেষ মুহূর্তে একটাই চাওয়া। শেখ মুজিবকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চাই। যে সিনেমায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থাকবে, বাংলার সংস্কৃতি সমানভাবে উঠে আসবে। মৃত্যুর আগে যদি এই সুযোগ পাই, সেটা হবে অনেক আনন্দের।

কিংবদন্তি এই অভিনেতা ১১ বার হজ করেছেন। আবারও হজে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। শেষবার যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তখন তিনি বলেছিলেন, আমি ১১ বার হজ করেছি, আরো একবার অন্তত যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার মেয়ের বাসায় বসে সাংবাদিকদের নিজেই জানিয়েছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। তবে এই ইচ্ছাও অপূর্ণই থেকে গেল। শরীরের সমর্থন না থাকা, করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা পৃথিবীর স্তব্ধ হয়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে আর সেটা হয়ে ওঠেনি।

২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এটিএম শামসুজ্জামান। সেদিনও খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। সেই রাতে তাকে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করা হয়। টানা ৫০ দিন এই হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ঐ বছরেরই ১৫ জুন তাকে শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে ২০১৮ সালেওর ২৫ নভেম্বর আন্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা দেখা গেলে এটিএম শামসুজ্জামানকে জরুরি অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছিল।