Search
Saturday 22 September 2018
  • :
  • :

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে রিজার্ভ চুরি নিয়ে দ্রুত মামলার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে রিজার্ভ চুরি নিয়ে দ্রুত মামলার নির্দেশ

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই রিজার্ভ হ্যাকের বিষয়ে জড়িত কোরিয়ান নাগরিককে শনাক্ত করার পর গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা হতে পারে। গভর্নরের নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মামলা হলে শিগগিরই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার করে ফেরত আনা সম্ভব হবে।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকারের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করেছে এফবিআই। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশের চুরি যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা বেশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

গতকাল দেবপ্রসাদ দেবনাথ ইত্তেফাককে এ বিষয়ে বলেন, গত ৫ জুলাই ফিলিপাইনের আদালতে যে তথ্য উপাত্ত দেওয়া হয়েছে, সেখানেও আনুষ্ঠানিকভাবে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সর্বশেষ এফবিআইয়ের তদন্তেও হ্যাকিং প্রমাণিত হয়েছে। এফবিআই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। ফলে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা আরো বাড়ল। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশের অর্থ চুরি হয়েছিল, এজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইও এ ঘটনার তদন্ত করছে। তিনি বলেন, এফবিআই উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে শুধু অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়নি, তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। কারণ, পার্ক জিন একটি বড় হ্যাকার চক্রের সঙ্গে জড়িত।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পার্ক জিন এর বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে যে সাইবার হামলা হয়েছিল সেটিও একই হ্যাকার চক্রের কাজ বলে মনে করা হয়। ২০১৪ সালে সনি কর্পোরেশনের ওপর সাইবার হামলার পেছনেও তারা ছিল। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাইবার হামলার পেছনেও এ চক্র জড়িত। পার্ক জিন ল্যাজারাস গ্রুপ নামে পরিচিত। গ্রুপটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন কর্পোরেশনকে টার্গেট করেছিল। কিন্তু সফল হতে পারেনি। পার্ক জিনের গ্রুপের সাইবার হামলায় ব্রিটেনের একটি কোম্পানি অচল হয়ে পড়েছিল। চীনা কোম্পানি চুসান এক্সপোর আড়ালে পার্ক জিনের হ্যাকার গ্রুপটি কাজ করত। ওই চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিট্যান্স কোম্পানির কাছে আছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান। সোলায়ার নামের একটি ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আরেকটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অং ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ফেরত আনা গেছে। তবে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ ডলারের ট্রেস করা যায়নি। সূত্র: ইত্তেফাক