Search
Sunday 22 May 2022
  • :
  • :

মোদী-জায়ার পাসপোর্টের আর্জি খারিজ

মোদী-জায়ার পাসপোর্টের আর্জি খারিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কর্তার বিদেশ ঘোরায় কোন ওজর আপত্তি না থাকলেও গিন্নির বিদেশযাত্রা বারবারই আটকে যাচ্ছে কর্তার জন্যই। না, এ কোনও আম সংসারের কূটকাচালি নয়। এর পিছনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে দেশের আইন। কিন্তু কার জন্য দেশের আইন এমনি করে বাগড়া দিচ্ছে? তিনি আর কেউ নন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্ত্রী যশোদাবেনে।

কর্তা এখানে শুধু গিন্নির নন। তিনি দেশেরও কর্তা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তাঁর স্ত্রী যশোদাবেনের পাসপোর্টই আটকে দিয়েছে আমদাবাদের পাসপোর্ট দফতর। কারণ, তাঁর কাছে নেই কোনও বিবাহের প্রমাণপত্র।

ব্যাপারটি কী?

স্কুলশিক্ষিকার পদ থেকে অবসরের পর এই প্রথম বার পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর স্ত্রী। বিদেশে কিছু বন্ধু ও পরিবারের লোকেদের সঙ্গে দেখা করার জন্য। আমদাবাদের পাসপোর্ট দফতরের মতে, প্রথমে অনলাইনে ফর্ম ভরার পর গত শুক্রবার আমদাবাদের পাসপোর্ট কেন্দ্রে আসেন তিনি। আবেদনপত্রে নিজেকে ‘বিবাহিত’ লিখেছেন। অথচ বিবাহের প্রমাণস্বরূপ কোনও বৈধ নথি তাঁর কাছে ছিল না। সে কারণে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় পাসপোর্ট দফতর।

এই ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় পড়ে যায় মিডিয়ায়।  সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চেয়ে টেলিফোন করেন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসার জেড এ খানকে। খানের তড়িৎ জবাব, ব ‘‘যশোদাবেন তাঁর পাসপোর্ট আবেদনপত্রে নিজের স্বামী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর নাম লিখেছেন। কিন্তু আইন অনুসারে ২০০৬ সালের পর বিবাহ হলে বিবাহের সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। তার আগে হলে স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ হলফনামা দরকার। স্বামী বা স্ত্রী-এর মধ্যে কেউ মারা গেলে মৃত্যুর প্রমাণপত্র দিতে হয় পাসপোর্ট দফতরে। কিন্তু যশোদাবেন নিজেকে বিবাহিত দাবি করেও তাঁর কাছে না আছে বিবাহের সার্টিফিকেট, না স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ হলফনামা। সে কারণে এই আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে।’’

অতএব উপায়?

পাসপোর্ট অফিসের মতে, যশোদাবেনকে পাসপোর্ট পেতে হলে তাঁর স্বামী নরেন্দ্র মোদীর স্বাক্ষর করা যৌথ হলফনামা পেশ করতে হবে। তা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। যদিও যশোদাবেন পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় গত লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর পেশ করা নির্বাচনী হলফনামার প্রতিলিপিটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। যেখানে প্রথম বার যশোদাবেনকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু পাসপোর্ট দফতর সেই নথিকে গুরুত্ব দেয়নি। পাসপোর্ট অফিসারের মতে, ‘নরেন্দ্র মোদীর সেই হলফনামাটি অন্য আর একটি উদ্দেশ্যে দেওয়া। সেটি পাসপোর্ট দফতর স্বীকার করতে পারে না।’ফলে নরেন্দ্র মোদী যদি এখন তাঁর স্ত্রী যশোদাবেনের সঙ্গে মিলে যৌথ হলফনামা দিতে রাজি হন, তা হলেই বিদেশযাত্রার স্বপ্ন পূরণ হবে যশোদাবেনের।

কিন্তু লোকসভা ভোটের সময় নির্বাচনী হলফনামায় এক বার উল্লেখ ছাড়া কখনওই স্বীকৃতি দেননি তাঁকে। নরেন্দ্র মোদীর আগে যত জন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁদের সকলের পরিবার প্রধানমন্ত্রী নিবাসে সঙ্গে থেকেছেন। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর তিন মূর্তি ভবনে থাকতেন ইন্দিরা। মোরারজি দেশাইয়ের ছেলেরা, পি ভি নরসিংহ রাওয়ের সন্তানরাও সঙ্গে থাকতেন। অটলবিহারী বাজপেয়ী  বিয়ে না করলেও তাঁর পালিতা কন্যা রেস কোর্স রোডে থাকতেন। এ বারই নরেন্দ্র মোদী প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি নিজের পরিবারের কোনও সদস্যকেই রেস কোর্সে সঙ্গে রাখেননি।

অথচ, লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বামীর জন্য মন্দিরে মন্দিরে ঘুরেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কামনা করে পুজো দিয়েছেন। চল্লিশ বছর ধরে অপেক্ষা করেছেন, কখন ডাক আসে। ভোটে বিজেপি-র বেনজির সাফল্যের পরেও জানিয়েছিলেন, নরেন্দ্র মোদীর ডাক পেলে প্রধানমন্ত্রী নিবাসে গিয়েও থাকতে রাজি। কিন্তু সেই ডাক আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। তা নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন যশোদাবেন। তথ্য জানার অধিকারে জানতে চেয়েছিলেন, ভারত সরকার তাঁকে কী কী নিরাপত্তা দিচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই তথ্য দেওয়াও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এখন স্কুল থেকে অবসর নিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর এক ভাই অশোক মোদীর সঙ্গে।

স্ত্রীকে অবজ্ঞা নিয়ে বিরোধীরা এ যাবৎ অনেক বার কটাক্ষও করেছে। এখন সুষমা স্বরাজের বিদেশমন্ত্রকের অধীনে থাকা পাসপোর্ট দফতর কী করে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর পাসপোর্ট আটকে দিচ্ছে, তা নিয়েও অনেকের ভ্রু কুঁচকেছে। রাজধানীর অলিন্দে প্রশ্ন উঠেছে, পাসপোর্ট দফতর শুধুই কি নিছক আইন মেনে গোটা কাজ সম্পন্ন করতে চাইছে? না কি এর পিছনে রয়েছে বিজেপি-র অন্দরের কলহের আভাসও? যে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনা করে, এ বারে তাঁর স্ত্রীর বিদেশযাত্রার পিছনেও কি রয়েছে অন্য কোনও অভিসন্ধি? নরেন্দ্র মোদী এর পর যে দেশ সফর করবেন, পাসপোর্ট পেলে সেখানেই কি চলে যেতে পারেন যশোদাবেন?

সে সব তো পরের কথা। এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন, স্ত্রীকে পাসপোর্ট পাইয়ে দিতে নরেন্দ্র মোদী কি যৌথ হলফনামটিতে স্বাক্ষর করবেন?এ প্রশ্নটি  দিল্লির সদরে অন্দরে বেশ ঝড় তুলেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.