Search
Friday 16 November 2018
  • :
  • :

মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে প্রশ্ন

মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে প্রশ্ন

স্পোর্টস ডেস্ক, ৭ নভেম্বর : ৪০ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ার। ৭৬ ইনিংস। মোট রান ২ হাজার ১০০। অ্যাভারেজ ২৯.১৬। স্ট্রাইক রেট ৫১.৬৬। সেঞ্চুরি একটি। সবশেষ ৮ ইনিংসে রান ১৭, ৬, ০, ১৫, ০, ৪, ০, ১৬। মোট ৫৮। এর মধ্যে তিন ইনিংসে আবার রানের খাতাই খুলতে পারেননি। এই ৮ ইনিংসে ব্যাটিং গড় ৭.২৫! জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের টেস্ট সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। বলছেন, অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান কি টেস্টের জন্য সত্যিই ফিট?

চোটের কারণে নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ছিটকে গেলে সুযোগটা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ধারণা করা হচ্ছিল, নেতৃত্বের ঝান্ডা হয়তো প্রেরণা হবে তার। আদতে নিজেকে ব্যাট হাতে কতটুকু মেলে ধরতে পেরেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান?

শেষ আট ইনিংসে ৬ কিংবা ৫ নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচে নেমেছিলেন। তবে বাংলাদেশের টেস্ট দলের আপৎকালীন অধিনায়ক রানের খাতাই খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ বলে ১৬ রান করেন। গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে ব্যাটিং করেছেন। অথচ গড় ত্রিশের (২৯.১৬) নিচে। সব শেষ ৩০ ইনিংসে ফিফটি মাত্র চারটি। মাহমুদউল্লাহর টেস্ট সামর্থ্য নিয়ে তাই প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক!

মাহমুদউল্লাহর মতো টেস্টে বাংলাদেশ দলের অবস্থাও শ্রীহীন। এ (জিম্বাবুয়ে) নিয়ে টানা আট ইনিংসে ২০০ রান করতে পারল না টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম টেস্ট হারের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক অবশ্য কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি। বলেছেন, ‘আমাদের সবার ব্যক্তিগত একটা ভাবমূর্তি আছে। একই সঙ্গে এটা বাংলাদেশ দলেরও (ভাবমূর্তির) ব্যাপার। আমরা বাংলাদেশ দলের জন্য খেলছি। অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশ ক্রিকেটকে কিছু ফেরত দিতে হবে।’

জিম্বাবুয়েকে কি প্রতিপক্ষ হিসেবে খুব হালকাভাবে নিয়েছিল বাংলাদেশ? এই দলটার বিপক্ষেই তো ওয়ানডে সিরিজ ৩-০ তে জিতেছে। অথচ দেশের মাটিতে এই দলটার কাছেই কিনা টেস্টে এমন শোচনীয় পরাজয়! এটা মেনে নিতে পারছেন না সমর্থকরা। অবশ্য সিলেট টেস্টের শুরু থেকেই ‘বিতর্ক’ পিছু লেগে ছিল, যার শুরুটা হয়েছিল একাদশ দেখার পরই। অমন উইকেটে বাংলাদেশ কিনা খেলতে নেমেছিল মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে।

সাড়ে তিন দিনেই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট। সফরকারী জিম্বাবুয়ে পেয়েছে ১৫১ রানের বড় জয়। হারের কারণ ব্যাটিং-ব্যর্থতা। ইমরুল, লিটন, মুমিনুল, শান্ত, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিকদের মতো ব্যাটসম্যানদের ‘কঙ্কালসার’ দেহটাই যেন আরও একবার দেখা গেছে! সমর্থকদের কাছে তাই দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাহমুদউল্লাহ। বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের আগেও এমন সময় এসেছে, তখনও আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আশা করি সবাই মিলে আবার ঘুরে দাঁড়াব।’

১১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ টেস্টে ঘুড়ে দাঁড়াতে না পারলে যে মান থাকবে না! মাহমুদউল্লাহর মতো দলের অন্য খেলোয়াড়রা এখন বিষয়টা অনুধাবন করতে পারলেই হয়! নইলে মাহমুদউল্লাহর মতো বাংলাদেশ দলের টেস্ট সামর্থ্য নিয়েও যে উঠবে প্রশ্ন! সূত্র: আমাদের সময়