Search
Tuesday 17 May 2022
  • :
  • :

মহাকাশেও ট্র্যাফিক জ্যাম,লাল বাতি জ্বলছে মহাকাশে!

মহাকাশেও ট্র্যাফিক জ্যাম,লাল বাতি জ্বলছে মহাকাশে!

প্রযুক্তি ডেস্ক: এতদিন ট্রাফিক জ্যাম কেবল মর্তেই ছিল। কিন্তু এবারে তার পরিধি মহাকাশে ছড়িয়েছে। আবার তা দখলেও নিয়েছে। আশ্চর্য হচ্ছেন তা হলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই দুর্ভোগ? আর এই দুর্ভোগের খেসারত কি হতে পারে?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুর্বিষহ ট্র্যাফিক জ্যামে হাঁসফাঁস করছে মহাকাশ। কোনও যান পাঠানোর আগে এ বার নাসা, ইসরো, ইএসএ-কে জেনে নিতে হবে, লাল বাতি ‘সবুজ’ হল কি না মহাকাশে!

বিভিন্ন দেশের পাঠানো ভুরি ভুরি মহাকাশযান এতটাই যানজট পাকিয়েছে এই সৌরমণ্ডল আর তার বাইরের ব্রহ্মাণ্ডে যে, বড় দুর্ঘটনাঘটে যেতে পারে যে কোনও মূহুর্তে। ঘটতে পারে প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একটি করে বড়সড় দুর্ঘটনা। ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারেযে কোনও মহাকাশযান। আর তা ভেঙে পড়তে পারে আমাদের মাথায়! কি ভয়ঙ্কর কথা?

এই মূহুর্তে মহাকাশযান, কৃত্রিম উপগ্রহ, টেলিস্কোপ মিলিয়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি পার্থিব জিনিসপত্র রয়েছে মহাকাশে। সংখ্যাটা আরপাঁচ বছরে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

কোনও কল্প-কথা নয়। হালে এই দুঃসংবাদটি দিয়েছে বিশ্বের সবক’টি দেশের সবক’টি মহাকাশ গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়েগড়ে ওঠা ‘ইন্টার-এজেন্সি স্পেস-ডেব্রি কো-অর্ডিনেশন কমিটি (আইএডিসি)’। মহাকাশের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করতে গতঅক্টোবরে জরুরি বৈঠকে বসেছিল আইএডিসিসি। সেই বৈঠকে মূল আলোচ্য ছিল-‘সুগভীর মহাকাশে মহাকাশচারী ও মহাকাশযানেরনিরাপত্তা।’

আইএডিসি-র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসোসিয়েটঅধ্যাপক হিল্লোল গুপ্ত জানাচ্ছেন, ‘‘আইএডিসি-র বৈঠকে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে সর্বসম্মতিতেনেওয়া হয়েছে একটি প্রস্তাব।’’

প্রস্তাবে যা যা বলা হয়েছে?

লরেল থেকে জানা গেছে, ‘‘ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘‘আগামী দিনে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মহাকাশে। চুরচুর করে ভেঙে পড়তেপারে প্রচুর মহাকাশযান। প্রতি পাঁচ বছর অন্তর একটা করে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে মহাকাশে।’’

কী ভাবে মহাকাশে ঘটতে পারে সেই সব দুর্ঘটনা?

বিজ্ঞানীদের কথায় ‘‘আইএডিসি-র প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মোটামুটি ছয় রকম ভাবে ওই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এক, অন্য একটিমহাকাশযান থেকে ছিটকে আসা কোনও অংশ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে আরেকটি মহাকাশযানকে। যে নিয়মে পাখির ধাক্কায়বিমানের ক্ষতি বেশি হয়, সেই নিয়মেই কোনও মহাকাশযান থেকে ছিটকে আসা টুকরোর আঘাতে অন্য মহাকাশযানের ক্ষতিই বেশিহবে। দুই, দীর্ঘ দিনের মহাকাশ যাপনে খাবারের প্যাকেট, ডিজপোজেবল জামাকাপড় ও কাগজের তোয়ালে প্রচুর পরিমাণে জমে যায়মহাকাশযানে। তা থেকে ভয়াবহ আগুন লাগতে পারে। ব্যাটারি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিও খুব গরম হয়ে গেলে আগুন লেগেযেতে পারে মহাকাশযানে। তিন, গাণিতিক হিসেবের সামান্য ভুলচুকে বিভিন্ন দেশের পাঠানো মহাকাশযানের কক্ষপথ খুব কাছাকাছিহয়ে গেলে বা তারা একই কক্ষপথে খুব কাছাকাছি চলে এলে হয়ে যেতে পারে মুখোমুখি সঙ্ঘর্ষ। চার, কোনও উল্কা-খণ্ড বা অন্য কোনওমহাজাগতিক বস্তু থেকে ছিটকে আসা কোনও অংশ ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে মহাকাশযান। পাঁচ, মহাকাশচারীর স্পেস স্যুটেবড়জোর সাত ঘণ্টার অক্সিজেন মজুত করে রাখা যায়। কোনও কারণে মহাকাশচারী ভয় পেয়ে গেলে সেই অক্সিজেনের ভাণ্ডার খুবতাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যেতে থাকে। এতে মহাকাশচারীর জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ছয়, মহাকাশচারীদের স্পেস স্যুটের হেলমেটে ফাটলধরছে। আর তা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ছে মহাকাশের জলীয় বাষ্প। যা মহাকাশচারীর স্পেস স্যুটের তাপে গলে জল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তুমহাকাশের শূন্য অভিকর্ষে সেই জল-বিন্দু নীচের দিকে নামতে না পেরে তা মহাকাশচারীদের চোখ বা নাকের ওপর জমা হচ্ছে। এতেমহাকাশচারীদের দৃশ্যমানতার সমস্যা হচ্ছে। বাড়ছে শ্বাসকষ্ট। যাতে মৃত্যু হতে পারে মহাকাশচারীর।’’

আর এ সমস্যায় আমাদের করনীয় ?

সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের ভূতপূর্ব এক কর্মকর্তা বলছেন, ‘‘ট্র্যাফিক জ্যাম কমাতে গোটা বিশ্বে বাড়ানো হচ্ছেউড়ালপুলের সংখ্যা। একই ভাবে মহাকাশে যানজটের সমস্যা কমাতে আইএডিসি সেখানে যাওয়ার জন্য ‘বিকল্প রুট’ বা নতুন নতুনকক্ষপথ খুঁজে বের করতে বলেছে বিশ্বের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলিকে।’’

না হলে মহাকাশে এক দিন নাসা, ইসরোকে বলতেই হবে, ‘এই রোকো রোকো, পৃথিবীর গাড়িটা থামাও…’!

বা, পাড়ি জমানোর আগে জেনে নিতে হবে, লাল বাতি কি ‘সবুজ হল’ মহাকাশে?

সূত্র: ইন্টারনেট

 




Leave a Reply

Your email address will not be published.