Search
Thursday 19 May 2022
  • :
  • :

ভয়ঙ্কর জেএমবি ফিরছে

ভয়ঙ্কর জেএমবি ফিরছে

ঢাকা : নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা আবার ভয়ঙ্কর রূপে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য সংগঠনটির সদস্যরা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও শহরে। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা এবং হত্যা চালিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিতে চায় সংগঠনটি। বিভিন্ন গোপন আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকদ্রব্য মজুদ করছে তারা। তৈরি করছে বোমার পাশাপাশি হাতে তৈরি গ্রেনেড। গ্রুপ উপ-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে তারা ধারাবাহিকভাবে নাশকতামূলক কর্মকা- চালাচ্ছে। সংগঠন পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহ করতে অন্যান্য নানা উৎসের পাশাপাশি ডাকাতি ও ছিনতাইয়েও নেমেছে। নতুন রূপে শক্তির জানান দেওয়া এই জেএমবি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দাদের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু প্রশাসনযন্ত্রের সমন্বয়হীনতায় তাদের দমন করা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদীতে ধর্মযাজক হত্যাচেষ্টা, চট্টগ্রামে মাজারের কথিত খাদেম ও তার সহযোগী হত্যা, রাজধানীতে পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে গলা কেটে হত্যাসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকা-ে জেএমবির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে র‌্যাব-পুলিশের তদন্তে। সর্বশেষ পুরনো ঢাকার হোসনি দালানে হাতে তৈরি গ্রেনেড হামলাতেও জেএমবির জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। বিভিন্ন ঘটনায় জেএমবি সদস্যরা র‌্যাব-পুলিশের হাতে ধরাও পড়ছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না তাদের চালানো হামলা ও খুনখারাবি।

র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জেএমবিকে নির্মূল করা না গেলেও তারা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, নিয়ন্ত্রণে থাকলে একের পর এক এমন ঘটনার জন্ম দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হতো না। কাজেই নিষিদ্ধ সংগঠনটিকে একেবারে নির্মূল করতে সরকারকে নতুন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সব সংস্থাকে একযোগে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি তারা ধর্মের নানা অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে জেএমবির সদস্য বানাচ্ছে। এর বিপক্ষে সরকারকেও জোরালোভাবে প্রচারণা চালাতে হবে। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।

র‌্যাবের হিসাব বলছে, ২০০৪ সাল থেকে চলতি বছর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ১৬৪ জন জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের মধ্যে ৬০২ জনই জেএমবি সদস্য। জেএমবির এসব সদস্যের মধ্যে রয়েছে ১৭ জন শুরা সদস্য, ৯৬ জন এহসার, ৩৭ জন গায়েরি এহসার, ১১ জন আত্মঘাতী ও ৪৪১ জন কর্মী।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আবদুর রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জেএমবি নিষিদ্ধ জঙ্গি দল। মূলত জামায়াত-শিবিরের সাবেক ক্যাডারদের সমন্বয়ে এর উৎপত্তি। বিভিন্ন দেশের জঙ্গি কার্যক্রম দেখে তারা উৎসাহিত হয়েছে। এক পর্যায়ে জেএমবির শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হওয়ার পর বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দলটির নেতৃত্ব। ধর্মের নামে সহিংসতাই এদের কাজ। আমাদের মনে রাখতে হবে, এ দেশে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে জঙ্গিরা গড়ে উঠেছে। কাজেই এদের বেঁচে থাকার উপাদান যতদিন থাকবে ততদিন তারা বেঁচে থাকার চেষ্টা করবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে। সেটিই তাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, এদের নির্মূলে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। সশস্ত্র অবস্থায় যারা আছে তাদের গ্রেপ্তার করতে আরও সক্রিয় হতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এসব সংগঠনের অর্থদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এরা যেহেতু মতাদর্শ দ্বারা পরিচালিত হয়, সামাজিকভাবে সেই মতাদর্শগত দিকটি মোকাবেলা করতে হবে। মতাদর্শের কারণেই তারা জঙ্গিবাদ বেছে নিয়েছে। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের শান্তির পথে ফিরিয়ে আনা। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এটা পরিষ্কার বোঝা যায়, তারা সফল হতে পারেনি ঠিকই, তবে তাদের নির্মূলও করা যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে জেএমবি। ঢাকা থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ দুই বছরে জেএমবি রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ১৩ জন পীর, ফকির ও মাজার ভক্তকে খুন করেছে। পুরো বাংলাদেশকে জেএমবি ১২টি অঞ্চলে ভাগ করে চালাচ্ছে সাংগঠনিক তৎপরতা। একেকটি অঞ্চলের একেকজন আঞ্চলিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছে। এক অঞ্চলের সঙ্গে আরেক অঞ্চলের যোগাযোগ খুবই কম। কেন্দ্রীয়ভাবে তারা ঢাকা থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। নতুন করে তাদের সংগঠিত করতে বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশ ও গোয়েন্দাদের।

চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার আগে জেএমবি সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন পীর, মাজার সেবক, ফকিরকে হত্যা করে। সে সময় তারা মেলা ও যাত্রা প্যান্ডেলেও হামলা চালায়। এছাড়া হামলা চালায় গির্জাতেও। তখন বেশিরভাগ ঘটনায় তারা বোমা ব্যবহার করে। এখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করছে। হাতে তৈরি গ্রেনেডও ব্যবহার করছে। এ গ্রেনেড র‌্যাব-পুলিশকে অনেকটাই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গত ৫ অক্টোবর ঈশ্বরদীর ফেইথ বাইবেল চার্চের যাজক লুক সরকারের ভাড়া বাসায় গিয়ে তাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেএমবির আঞ্চলিক নেতা রাকিব হোসেন রাব্বিসহ ৫ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় নিজ বাড়িতে পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খিজির খানকেও গলা কেটে হত্যা করে জেএমবি সদস্যরা। এরপর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জেএমবির গায়েরে এহসার সদস্য তরিকুল ইসলাম ওরফে মিঠুসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তারা খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দেয়। ৪ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামি থানার বাংলাবাজারে মাজারে ঢুকে কথিত ল্যাংটা ফকির ও তার সহযোগীকে গলা কেটে হত্যা করে। ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলীর খোয়াজনগর এলাকায় জেএমবির একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ৮টি হ্যান্ড গ্রেনেড ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক প্রধান জাবেদসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। তারা প্রত্যেকেই এ হত্যাকা-ে অংশ নেয়। জাবেদ ৬ অক্টোবর ভোরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে আরেকটি অভিযানে গিয়ে গ্রেনেড বিস্ফোরণে নিহত হয়। প্রতিটি ঘটনায় তারা ধর্মীয় আদর্শগত বিরোধের কারণে হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। এছাড়া রাজধানীর গোপীবাগের সিক্স মার্ডার ও পূর্ব রাজাবাজারে মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকা-ের সঙ্গেও জেএমবির সম্পৃক্তা রয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দমন করেছে সরকার। আগামীতে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা এ দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটাতে চায়, তাদের দমন করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘শহীদ নূর হোসেন সংসদ’ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশকে পেছনে ফেলতে ও অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। যারা ষড়যন্ত্র করে দেশে নাশকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। যারা এ দেশকে একটি  অকার্যকর দেশে পরিণত করতে চায়, যারা বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, জঙ্গির উত্থান ঘটাতে চায়, জনগণই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন এবং জনগণই তার ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের প্রশাসন জনগণকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করে। আমরা মনে করি, সে জন্যই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা সফল হচ্ছি। আমরা অবশ্যই এসব জঙ্গি, এসব রাষ্ট্রদ্রোহী, যারা বিশৃঙ্খলাকারী- তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, সাংগঠনিক কর্মকা- পরিচালনায় জেএমবি সদস্যরা অর্থ সংগ্রহের জন্য ডাকাতি-ছিনতাই করছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তারা এনজিও ও ব্যাংকে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ধরা পড়ায় সে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। লুণ্ঠিত মালামালকে তারা বলে থাকে গণিমতের মাল। জেএমবি সদস্যরা মনে করে মাজার বা খানকা শরিফের পীরের অনুসারী বা মুরিদ হওয়াকে ধর্মীয়ভাবে নাজায়েজ। শিরক। এজন্য গত দুই বছর ধরে নতুন করে সংগঠিত হয়ে জেএমবি সদস্যরা পীর, ফকির ও মাজার সেবকদের হত্যা মিশন চালিয়ে যাচ্ছে।

জেএমবির এ তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ প্রতিবেদককে বলেন, বিভিন্ন সময় তারা নিজেদের কর্ম তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তবে যতবারই তারা এ চেষ্টা করেছে ততবার ধরাও পড়েছে। র‌্যাব সব সময় এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। যারা এখনো পলাতক অবস্থায় রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

র‌্যাব-পুলিশ সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩টি ধারায় বিভক্ত জেএমবি। একটি অংশের প্রধান জেএমবির আমির সাইদুর রহমানের পুত্র আবু তালহা মোহাম্মদ ফাহিম ওরফে পাখি, আরেকটি ডা. নজরুল। অন্যটি চালাচ্ছে ফারুক হোসেন ওরফে আনোয়ার। একটি ধারার সঙ্গে শিবিরের কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে। মূলত যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে শিবিরের কট্টরপন্থী কিছু সদস্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছে। গাজীপুর জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় জেএমবি আস্তানা গেড়েছে। এছাড়া ঢাকার উপকণ্ঠ সাভার, কেরানীগঞ্জ, টঙ্গী, ফতুল্লায় জেএমবির আস্তানা রয়েছে। আর ঢাকার কামরাঙ্গীরচর, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, উত্তর খান, দক্ষিণ খান এবং মিরপুরে জেএমবির গোপন আস্তানা রয়েছে বলে র‌্যাব পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

গত সোমবার রাজধানীর উত্তরা থেকে ১১ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে জেএমবি সদস্যরা গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং শেরপুরে কয়েকটি ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ধরা পড়ায় সে পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।

র‌্যাবের এক গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে জেএমবির মজলিসে শুরা গঠিত হওয়ার পর কর্মী তৈরির উদ্দেশ্য শুরা সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তারা দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে নিজেদের আসল নাম পরিবর্তন করে সংগঠনের ছদ্মনামে বাসা ভাড়া নিয়ে সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করে। জেলার বিভিন্ন থানায় তাবলিগের পদ্ধতিতে সফর শুরু করে। প্রেষণা, ধর্মীয় আলোচনা, বক্তৃতা ও দাওয়াতের মাধ্যমে কর্মী সংগ্রহ কাজ চালাতে থাকে। এক জেলায় কর্মী সংগ্রহ আশানুরূপ হলে শুরা সদস্যরা পরবর্তী অন্য জেলায় গমন করত। যখন সব জেলাতেই কিছু কিছু কর্মী তৈরি হয় তখন তাদের একত্র করে বিভিন্ন আহলে হাদিস মসজিদে তাবলিগ বেশে তালিম দেওয়া হয়। তালিম দেওয়া শেষ হলে সদস্যদের ইউনিট, থানা ও জেলা সংগঠন অনুযায়ী বিভক্ত করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এখনো এসব কর্মকা- চলমান রয়েছে।

র‌্যাব-পুলিশ সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা এবং পরবর্তীকালে আরও কিছু বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত ৫৩ জন জেএমবি সদস্য এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের কেউ কেউ বিদেশেও পালিয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন কারাভোগের পর আবার জামিনে এসেও জেএমবি সদস্যরা খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী হামলায় জড়াচ্ছে। ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছিল জেএমবি নেতা তারিকুল ইসলাম। যে দুই বছর আগে জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর বাড্ডায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার হন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খিজির খানকে হত্যার কথা স্বীকারও করেন। তারিকুলের মতো জেএমবির ৪৫ সদস্য জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সংগঠনের নাশকতামূলক কর্মকা-ে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আপিল আবেদন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা করে পালানো দুই জঙ্গি বোমা মিজান এবং সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন গতকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। তারা ভারতে পলাতক বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।  -আমাদের সময়




Leave a Reply

Your email address will not be published.