Search
Thursday 26 November 2020
  • :
  • :

বিহারের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম বিহীন মন্ত্রিসভা

বিহারের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম বিহীন মন্ত্রিসভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৯ নভেম্বর : ভারতের বিহারে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম রাখলেন না। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ১২৫টি আসন নিয়ে ফের পটনার মসনদ দখল করেছে এনডিএ। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি, জিতন রাম মানঝির হাম এবং মুকেশ সাহানির ভিআইপি একজন মুসলিম প্রার্থীকেও টিকিট দেয়নি।

১২৫ জন বিধায়ক। ১৪ জন মন্ত্রী। জাতপাতের সমীকরণের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়েছে দলিত, যাদব, ভূমিহারা, ব্রাহ্মণ, রাজপুত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের। কিন্তু বিহারে নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায় একটাও মুসলিম মুখ নেই। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে বিহারের ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কোনোদিন ঘটেনি। যা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

সোমবারই সপ্তম বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন নীতীশ কুমার। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরো ১৩ জন। যাদের মধ্যে দু’জন উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ ৭ জনই বড় শরিক বিজেপির বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রী-সহ ৫ জন জেডিইউ-র সদস্য।

মন্ত্রিসভায় একটি করে জায়গা পেয়েছে ছোট শরিক হাম ও ভিআইপি। কিন্তু শাসক শিবিরের একজন বিধায়কও মুসলিম সম্প্রদায়ের নন। তাই মন্ত্রিসভাতেও কোনো মুসলিম মুখের দেখা নেই।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি, জিতেন রাম মানঝির হাম এবং মুকেশ সাহানির ভিআইপি একজন মুসলিম প্রার্থীকেও টিকিট দেয়নি। নীতীশের জেডিইউ ১১ জন মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করালেও, কেউ ভোটে জিততে পারেননি। ১১ জনের মধ্যে ৬ জন জেডিইউ প্রার্থীই বিহারের মুসলিম প্রভাবিত সীমাঞ্চল থেকে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির মিম-ই ৫টি আসন জিতে নিয়েছে। নীতীশের গত মন্ত্রিসভার মুসলিম মুখ এবং সাবেক সংখ্যালঘু উন্নয়নমন্ত্রী খুরশিদ আহমেদও এবার ভোট বৈতরণী পার করতে পারেননি।

গত বিহার বিধানসভায় ২৪ জন মুসলিম বিধায়ক ছিলেন। এবার সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯-এ। এর মধ্যে আরজেডির ৮ জন, কংগ্রেসের ৪ জন এবং বামেদের একজন মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন। মিম-এর ৫ জন এবং মায়াবতীর বিএসপির একজন মুসলিম বিধায়ক রয়েছেন।

বিহারের জনসংখ্যার প্রায় ১৭ শতাংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের। তারপরেও রাজ্য বিধানসভায় হাতেগোনা মুসলিম জনপ্রতিনিধি থাকায় শাসক শিবিরকেই বিঁধেছেন বিরোধীরা। সমালোচনায় অবশ্য কান দিতে নারাজ শাসক জোট।

জেডিইউ-র সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি তনবীর আখতারের মতে, ‘গত ১৫ বছরে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অনেক কাজ করেছেন নীতীশ কুমার। কিন্তু মুসলিমরাই নীতীশজির প্রার্থীদের ভোট দেননি। তাই এই পরিস্থিতির জন্য রাজ্যের মুসলিমরাই দায়ী।’