Search
Tuesday 17 May 2022
  • :
  • :

বিএনপিকে নিয়ে চিন্তায় আওয়ামী লীগ

বিএনপিকে নিয়ে চিন্তায় আওয়ামী লীগ

ঢাকা : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বিতীয় বার্ষিকী ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে সরকার নতুন ভাবনায় পড়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ৫ জানুয়ারির আগে-পরে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনাগুলোকে এই ছকেরই অংশ বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক বলেন, দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে—এটা প্রমাণ করার জন্যই সাম্প্রতিক অস্থিরতার সূত্রপাত। এই সংকট নিরসন এবং একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই সরকারবিরোধীরা এটা করছে। তবে দুই বিদেশি হত্যা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের দায় স্বীকারের খবর এর একটি আন্তর্জাতিক রূপ পেয়েছে। সরকার এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র খুঁজলেও এসব ঘটনা যাতে আইএস বা জঙ্গি তৎপরতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা না পায়, সেই চেষ্টাও চালাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, চাপ দিয়ে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে বিএনপি-জামায়াত জোট বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে দৌড়ঝাঁপ করছে। এই অবস্থায় দেশে অস্থিরতা হলে সরকার চাপে পড়ে যাবে।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানের বিষয়টিও সরকারের মধ্যে ভাবনার সৃষ্টি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং একটি দলের প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া বিদেশে গিয়ে শুধু পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে থাকবেন—এটা মনে করছে না সরকার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে কি না এবং সরকারের ওপর নতুন কোনো চাপ আসছে কি না, সেটা নিয়েও সরকার চিন্তিত।

সরকারের একজন মন্ত্রী জানান, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দলের উচ্চপর্যায়ে একটা আলোচনা ছিল, দুই বছর পর আরেকটা নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু বিএনপি প্রথম বার্ষিকীতেই সরকারকে অনেকটা টেনে নামিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় চলে আসে সরকার। ফলে আগাম নির্বাচন বা বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি সরকারের গুরুত্বের তালিকা থেকে হারিয়ে যায়। বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেককেই আওয়ামী লীগ সরকার তার উন্নয়ন কার্যক্রম ও সন্ত্রাস দমনের কার্যক্রমের প্রচারের মাধ্যমে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।

দুই বিদেশি হত্যা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পর সরকার নিজের অবস্থান নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে। সরকার মনে করছে, ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে আরো অস্থিরতা বাড়তে পারে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশ ও সরকারকে অস্থিতিশীল করে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যেই নাশকতা, হত্যা, বোমা হামলা করছে। বিদেশিদের এজেন্ট হিসেবে তারা এগুলো করছে। ভবিষ্যতেও করবে। তবে তাদের এই নাশকতা ঠেকানোর শক্তি ও সামর্থ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রয়েছে।

সরকার ও আওয়ামী লীগের ভেতরে এমন মনোভাবও আছে যে, ২০১৪ সালের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের সক্ষমতা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের নেই। তবে চোরাগোপ্তা হামলা, ঝটিকা মিছিল এবং বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে লিপ্ত হতে পারে। সে কারণে এই জোটের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। গত বছরের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন মাস হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। এ সময় ব্যাপক সংঘাত ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, বিএনপি-জামায়াত জোটকে বিনা বাধায় সভা-সমাবেশের মতো প্রকাশ্য কর্মসূচি পালনেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ, দেশের মানুষ এবং অনেক বিদেশি রাষ্ট্রও মনে করে, বিরোধীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। তাদের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হলে সরকারেরও ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি হবে। আবার অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে—এমন পরিস্থিতিও এড়ানো যাবে।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দুটি কৌশল নিয়েছে। দুই বিদেশি হত্যা এবং শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলার পেছনে বিএনপি জোট দায়ী—তা প্রচার করা; পাশাপাশি বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে।

সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতিদিনই বক্তৃতা-বিবৃতিতে অভিযোগ করছেন, এসব ঘটনার পেছনে বিএনপি-জামায়াত জোট জড়িত। নেতারা এ-ও বলছেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে বিদেশি শক্তিও এতে মদদ দিচ্ছে।

বিদেশি কারা মদদ দিচ্ছে—জানতে চাইলে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, অনেকেই বর্তমান সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি পুতুল সরকার বসাতে চায়। তাঁবেদার সরকার বসানোর জন্য সরকার ও দেশকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে চায়। এরা কারা, সবাই তাদের চেনে। তারা বাংলাদেশের অগ্রগতিতে খুশি নয়। তাদের খায়েশের পূর্ণতা দিতেই বিএনপি-জামায়াত মাঠে নেমেছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে ইউরোপের চারটি দেশ সফর করবেন। এসব সফরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমা বিশ্বে সরকারের অবস্থান এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী এসব সফর করবেন বলে সরকারের একটি সূত্র জানায়।

আগামী ৩ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেখান থেকে ফিরেই ইউনেসকোর কর্মসূচিতে অংশ নিতে ফ্রান্স সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টসহ উচ্চপর্যায়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। নভেম্বরের শেষের দিকে মাল্টায় বসবে কমনওয়েলথ সম্মেলন। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। পাশাপাশি কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার কথা রয়েছে শেখ হাসিনার। ডিসেম্বরে পুনরায় ফ্রান্সের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।-প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published.