স্পোর্টস ডেস্ক, ২২ সেপ্টেম্বর : লড়াইয়ে নামার আগে অজিদের ভয় বাংলাদেশ কোচ হাথুরুসিংহেকেও। কারণটা পরিষ্কার। অস্ট্রেলিয়া দলের ৭জন ক্রিকেটারের নাড়ি-নক্ষত্র জানেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ চণ্ডিকা  হাথুরুসিংহে। অজিদের ভয়ের কথাটা গতকাল হাথুরুসিংহের কাছে প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া ওয়েবসাইট ক্রিকেট ডটকম ডট এইউ । আর হাথুরুসিংহে এর উত্তরে অজিদের জন্য রেখেছেন ‘কিন্তু’। আদতে  অজিদের শঙ্কা বেড়েছে সর্বশেষ অ্যাশেজে ইংলিশদের কাছে নাকানিচুবানি খেয়ে। স্বাগতিকদের কাছে ৩-২ এ অ্যাশেজে হার দেখে অস্ট্রেলিয়া। আর ইংল্যান্ড দলে গুরুমন্ত্রণাটা ছিল প্রধান কোচ  ট্রেভর বেইলিসের। এ অজি কোচ ক্যারিয়ারে খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন সর্বশেষ অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দলের ৯ জন ক্রিকেটারকে।

আর অ্যাশেজ শেষে ইংল্যান্ড দলের সহ-কোচ পল ফারব্রেস ও অলরাউন্ডার মঈন আলী বলেন, অস্ট্রেলিয়া দলের ভেতরের খবর জানতে পারাটা অনেক কাজে দিয়েছে তাদের। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪’র মে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার দুই দল নিউসাউথ ওয়েলস ব্লুজ ও সিডনি থান্ডার্সের কোচের দায়িত্ব সামলান চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। ২০১২-১৩ মওসুমে অ্যান্থনি স্টুয়ার্ট বরখাস্ত হলে নিউ সাউথ ওয়েলস দলের প্রধান কোচেরও দায়িত্ব পান তিনি। অজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আসর বিগ ব্যাশ লীগে হাথুরসিংহে প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলান সিডনি থান্ডার্সের। এতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ৭ জন ক্রিকেটারের নাড়ি-নক্ষত্র জানেন এ লঙ্কান কোচ।  অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ, স্পিন তারাকা নাথান লায়ন, পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স,  টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান উসমান খাজা, উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান পিটার নেভিল, ও স্টিভেন ও’কিফে।

অজি খেলোয়াড়দের ভেতরের জ্ঞান নিয়ে সিরিজে বাংলাদেশ দল সুবিধা পাবে কি? বাংলাদেশ দলের প্রথান কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেন,  হ্যাঁ এবং না। তাদের (অস্ট্রেলিয়া) খেলার ধরন ও অন্য বিষয়গুলো জানা রয়েছে। এক্ষেত্রে আমি দলকে কিছুটা সাহায্য করতেই পারি। কিন্তু এটাও ঠিক, তারা খুবই ভালো খেলোয়াড়, তারা বড় মাপের খেলোয়াড় । তারাও জানে তাদের কী করতে হবে। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানা থাকলে আপনার হয়তো কাজে দেয়। কারণ আপনি জানেন তাদের সামর্থ্য ও দুর্বলতা।  জানেন তারা কিসে স্বাচ্ছন্দ্য ও অসুবিধা বোধ করে। তবে এটাও ঠিক, তাদের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতার কথা জানেন তারা নিজেরাও। হ্যাঁ এটা কাজে দেয়। সেক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতাগুলোতে আপনার লেগে থাকতে হবে। নির্দিষ্ট দিনের পরিস্থিতি ও খেলার পরিকল্পনাটা এতে জরুরি। আপনি যা চান তা করে দেখানোর মতো  খেলোয়াড় যদি আপনার হাতে থাকে তাহলেই এ সুবিধা নেয়া যায়।

১৫ বছরে ৯৩ টেস্টে বাংলাদেশ জয় দেখেছে ৭ বার। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার টেস্টেই হারের স্মৃতি টাইগারদের। এ তিনটিতে বাংলাদেশ হার দেখেছে ইনিংস ব্যবধানে। তবে দু’দলে সাম্প্রতিক শক্তি ও নৈপুণ্যের বিপরীত চিত্রটা চোখে পড়ছে অজি সাংবাদিকদেরও। ইয়াহু স্পোর্টস, ফক্স স্পোর্টস-এর প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক মার্টিন স্মিথ ক্রিকেকট ডট কমের নিবন্ধে লিখেছেন, চলতি বছর দু’দলের শক্তির ফারাকটা মিটে গেছে।  বাংলাদেশ সফরে ১৫ জনের স্কোয়াডটি অস্ট্রেলিয়ার স্মরণকালের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ দল।

দলের খেলোয়াড়দের একত্রে মাত্র ২০৭ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেয়ায় এবার অস্ট্রেলিয়া দলে নেই অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক, পেসার রায়ান হ্যারিস, ওপেনার ক্রিস রজার্স, অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন ও উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ব্র্যাড হ্যাডিন। অন্যদিকে ২০১৫’র বিশ্বকাপে দারুণ নৈপুণ্য প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে বাংলাদেশ। পরে টানা তিন ওয়ানডে সিরিজে তারা জয় দেখে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ইনজুরি নিয়ে বাংলাদেশ সফর থেকে ছিটকে গেছেন ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। পেসার মিচেল জনসন ও জশ হ্যাজেলউডকে বিশ্রামে রেখেছেন  অজি নির্বাচকরা। আর হাথুরুসিংহে বলেন,  ‘এক দেড় বছর আগে খেলার চেয়ে এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার মোকাবিলা করাটা ভাল হচ্ছে। কারণ তাদের দলে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে অবসর নিয়েছেন  ব্যাটসম্যানরা। জনসন, হ্যাজেলউড দলে না থাকলেও তাদের বোলিংটা বরং গত কয় বছরের তুলনায় শক্তিধর ।

তবে আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে চাই। আমরা ম্যাচে ২০ উইকেট নিতে পারলে সত্যি তাদের চাপে ফেলা যাবে। আমার খেলোয়াড়রা প্রত্যাশাপূরণ করতে পারছে দারুণভাবেই। কারণ তারা এখন বিশ্বাস করে, তারা ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে নিতে পেরেছে নিজেদের। তারা জানে, যেমন দলই হোক, দলটি অস্ট্রেলিয়া।’ বাংলাদেশ সফরে কন্ডিশনটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের তাপ ও ৮০% আর্দ্রতায় সেদ্ধ আবহাওয়ায় অজিদের খেলতে হবে বাংলাদেশের নিচু ও মন্থর পিচে। উপমহাদেশের মাটিতে শেষ ১৫ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জয় দেখেছে মাত্রই একবার। এতে তারা হেরেছে ৬ টেস্ট।

অস্ট্রেলিয়ার এবারের দলের মাত্র চারজনের রয়েছে বাংলাদেশ সফরের পূর্ব অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভারত সফরের অভিজ্ঞতা রয়েছে অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের। তবে এখানে পৃথক সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা পাবে তারা। এখানে আচার-কৃষ্টি, খাবারের মতো সবই আলাদা। বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কা আমার দেশ। কিন্তু একজন শ্রীলঙ্কানের জন্যও এটা একবারে অপরিচিত জায়গা।’

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে গড়াবে আগামী ৯ই অক্টোবর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *