Search
Sunday 22 May 2022
  • :
  • :

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলী জ্যাকো বক্সার থেকে এখন গায়ক

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আলী জ্যাকো বক্সার থেকে এখন গায়ক

তবারুকুল ইসলাম, লন্ডন : বক্সারছিলেন পেশাদার বক্সার। ব্রিটেনের হয়ে পাঁচ দফা জয় করেছেন বিশ্ব কিক বক্সিংয়ের শিরোপা। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক ব্রিটিশ কিক বক্সার আলী জ্যাকো এবার নাম লিখিয়েছেন পাশ্চাত্য সংগীতে।

গত বুধবার রাতে জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুক্তি পেয়েছে আলী জ্যাকোর প্রথম একক গান ‘গিভ মাই লাভ আ ব্র্যান্ড নিউ নেম’। ব্রিটিশ ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই লঞ্চিং অনুষ্ঠানে গানটির একটি মিউজিক ভিডিও এবং এর একটি রিমিক্স ভার্সনও উন্মুক্ত করা হয়। আলী জ্যাকোর মিউজিক ভিডিওটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ মূলধারার প্রতিষ্ঠান ‘এলবিই মিউজিক গ্রুপ’। মিউজিক ভিডিওতে জ্যাকোর সঙ্গে অভিনয় করেছেন স্বনামধন্য ব্রিটিশ সুপার মডেল জোডি কিড। আর ব্রিটিশ মূলধারার সংগীত লেখক, সুরকার, প্রযোজকসহ তিন শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন জমকালো এ অনুষ্ঠানে। উপস্থাপনায় ছিলেন ব্রিটেনের জনপ্রিয় মিউজিক রেডিও স্টেশন ‘কিস’-এর উপস্থাপিকা ও ডি জে নিভ স্পেন্সার।

অনুষ্ঠানে আলী জ্যাকো বলেন, তিনি নিজেই নিজের সংগীত প্রতিভার বিষয়ে অবগত ছিলেন না। মাত্র তিন মাস ধরে তিনি গান শিখছেন, লিখছেন এবং সুর করার চেষ্টা করছেন। প্রকাশিত গানটিসহ ইতিমধ্যে মোট ১৫টি গান তিনি নিজে লিখেছেন বলে জানালেন। তিনি জানান, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশের মিউজিক টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে তাঁর গান প্রচার হবে।

আলী জ্যাকো এ প্রতিবেদককে বলেন, তাঁর জন্ম লন্ডনে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ছোটবেলায় মা-বাবা তাঁকে বাংলাদেশে তাঁর আদি বাড়ি সিলেটের ছাতকে নিয়ে রাখেন। ছোটবেলার ছয়টি বছর তিনি সেখানে কাটিয়েছেন। লন্ডনে ফেরার পর মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৮৬ সালে তিনি মা-বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বক্সিং প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ২০০২ সালে পেশাদার কিক বক্সিং থেকে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খেতাব অর্জন করেন।

১৭ বছর বয়সেই আলী জ্যাকো পূর্ব লন্ডনে নিজেস্ব ফ্যাশন ডিজাইন এবং পোশাক কারখানা পরিচালনা করতেন। এরপর বক্সার হিসেবে পরিচিতি অর্জনের পর প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব মিডিয়া কোম্পানি জ্যাকো (জেকেও) টিভি। এই প্রতিষ্ঠান স্কাই ও চ্যানেল ফাইভের হয়ে বিভিন্ন বক্সিং প্রতিযোগিতার ভিডিও ধারণের পাশাপাশি বক্সারদের নিয়ে নানা তথ্যচিত্র নির্মাণ করে প্রচারের ব্যবস্থা করত। পেশাদার বক্সিং ছাড়ার পর তিনি রেস্তোরাঁ ব্যবসার পাশাপাশি নানা দাতব্য কাজে যুক্ত হন।
কিন্তু বাংলাদেশে দাতব্য-কাজ করতে গিয়ে তাঁকে নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান আলী জ্যাকো। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বাংলাদেশে নিজের এলাকায় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম এবং একটি স্কুল করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জায়গা-জমি নিয়ে মিথ্যা মামলাসহ নানা হয়রানির কারণে ওই সব উদ্যোগ অসমাপ্ত পড়ে আছে।

শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে সুর চাকমা নামে একজনকে লন্ডনে এনে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বলে জানান। সুর চাকমা বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের তালিকাভুক্ত বক্সার।

দুই সন্তানের জনক জ্যাকো আরও বলেন, বক্সিংয়ের মতো গান নিয়েও তিনি পরিচিতজনদের কাছ থেকে বাধার মুখে পড়েছেন। কিন্তু প্রথম মিউজিক ভিডিওর পর তাদের ধারণা ইতিমধ্যে অনেকটা বদলে গেছে। -প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published.