Search
Wednesday 18 May 2022
  • :
  • :

প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে সাড়া দেবে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিলে সাড়া দেবে বিএনপি

ঢাকা : দেশের চলমান সংকট সমাধানে অর্থবহ জাতীয় ঐক্যের ডাকের অপেক্ষায় বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হলে তাতে সাড়া দেবে দলটি। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, দেশ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিশেষ করে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গি রাষ্ট্রের তকমা দিয়ে বিদেশী কোনো কোনো মহলের বাংলাদেশে হামলে পড়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সংবাদ সম্মেলনে এ রকম ইঙ্গিত দিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তাই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র প্রতিহত, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে জাতীয় সংলাপের বিকল্প নেই।

শুধু রাজনৈতিক দল নয়, দেশের চলমান সংকটে বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ সংলাপে যুক্ত করা উচিত। তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীকেই জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে বিএনপির উদারপন্থী নেতারা ইতিমধ্যে মুখ খুলতেও শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তারা গুরুত্বপূর্ণ এ তিনটি বিষয় সুরাহা করতে চান। সম্প্রতি বিএনপির দু’জন সিনিয়র নেতা দলীয় একটি অনুষ্ঠানে তাদের দেয়া বক্তৃতার সারমর্মে বিষয়টিকে এভাবে উপস্থাপন করেন।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, দলের চেয়ে দেশের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়া হবে- এমন আন্তরিকতা না থাকলে কোনোভাবেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সবাইকে ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে এক টেবিলে বসতে হবে। তাহলেই অর্থবহ ফল আসবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াই প্রথম জাতীয় ঐক্য বা সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এ মুহূর্তে নিরাপত্তার ইস্যুটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দু’জন বিদেশী নাগরিক হত্যার পর বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো বাংলাদেশে চলাচললের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করে। দেশের মধ্যে মুক্তমনা লেখক-প্রকাশকদের ওপরও দফায় দফায় হামলা হচ্ছে। এমনকি আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই চিন্তিত।

এ বিষয়ে বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সারা বিশ্ব বাংলাদেশটাকে একটি লুটেরা ক্ষেত্র বানাতে চায় এবং বিপন্ন করতে চায় গণতন্ত্র- এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেও বুঝতে পেরেছেন এবং গোটা জাতিকে তিনি জানিয়েছেনও। এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্র রক্ষার এ পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া উচিত। তিনি মনে করেন, জাতীয় ঐক্যের মধ্যদিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার পদ্ধতিও বেরিয়ে আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির এ নেতা বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ব্যাপারে আপনি নেতৃত্ব দেন। সামনে থাকেন। সংলাপে বসেন।

দলটির নীতিনির্ধারকরা জানান, জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিলে তাতে সাড়া দেয়া হবে। ওই বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দলের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হতে পারে। তবে তাদের মূল উদ্দেশ্য থাকবে সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে করতেও তাদের আপত্তি থাকবে না। যদি নির্বাচনাকালীন সরকার পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বিএনপিকে দেয়া হলে তাতে রাজি হতে পারে দলটি। তবে তার আগে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করাসহ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সরকার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন। তারা খুব সতর্ক রয়েছেন দাবি করলেও একটার পর একটা নৃশংস ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। সবশেষ সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার পর মনে হচ্ছে আমরা ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের এ ক্রান্তিকালে সংলাপ বা সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া এ ক্রান্তিকাল থেকে উদ্ধার হওয়ার বিকল্প কোনো পথও নেই। তাই আমাদের নেত্রী জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন, সরকারের উচিত হবে সেই ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের জন্য ঐকমত্য সৃষ্টি করা। এ ঐক্য প্রক্রিয়া যত বিলম্ব হবে দেশ আরও কঠিন অবস্থার দিকে যাবে। ‘

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সংলাপে বসতে হবে। সংলাপ মানে কেবলমাত্র নির্বাচন নিয়ে আলোচনা নয়। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সংলাপের মাধ্যমে বর্তমান সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আমরা সংলাপের আহ্বান করছি না। বিচ্ছিন্নভাবে যারা দেশে সন্ত্রাস করছে এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে হলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইএস দেশ ধ্বংসের চক্রান্ত করবে তা হবে না। এ জন্যই প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিএনপি বিভক্তির রাজনীতি করে না। এ দলের জন্মই হচ্ছে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে। কিন্তু আজ জাতিকে বিভক্ত করার জন্য দায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই চলমান সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ তাকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগ যদি অর্থবহ হয়, তাহলে বিএনপি বিবেচনা করবে। -যুগান্তর




Leave a Reply

Your email address will not be published.