Search
Sunday 21 July 2019
  • :
  • :

পঞ্চগড়ে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ১০

পঞ্চগড়ে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ১০

পঞ্চগড়, ২৭ অক্টোবর : পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ২৫ জন। শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের দশমাইল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাতে পঞ্চগড় থেকে ভাইবোন নামের একটি যাত্রীবাহী মিনিবাস মৌলভীবাজার ব ০০৪৪) তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। এসময় তেতুলিয়া উপজেলা থেকে বিদ্যুতের খুঁটি বহনকারী একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো চ ০১৩০ ) সাথে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসের একটি অংশ দুমরে মুচরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত এবং পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর এক শিশু এক নারীসহ তিনজন মারা যান। রংপুর নিয়ে যাওয়ার পথে আরও ২ জন মারা যায়।

নিহতরা হলেন-পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের জোতহাসনা গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী লাভলী বেগম (২৯), সাইদুল ইসলামের পুত্র ইয়াছিন আলী (৭), বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের উৎকুড়া গ্রামের পুতিনের পুত্র অনিত্য (২০), তেতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের উত্তর কাসেমপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র ফরিদুল ইসলাম (৩০), পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের শিতলীহাসনা গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র রেজাউল (২২), তেতুলিয়া উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের গুয়াবাড়ি গ্রামের আব্দুর রশিদের পুত্র রাসেল (২০), তেতুলিয়া উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের গরিয়াগছ গ্রামের সফিকুল ইসলামের পুত্র ইউনুস আলী (২৮), তেতুলিয়া উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের মোমিনপাড়া গ্রামের আজিজুল ইসলামের পুত্র মোজাম্মেল (৩৮), তেতুলিয়া উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের গরিয়াগছ গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র মনির (৬) এবং ডাঙ্গাপাড়া এলাকার ওমর আলীর কন্যা রাহেলা (২৫)। আহতদের মধ্যে এজারুল, আজিজার, বিপুল, শাহীন, রেজাউল, সাদেকুল, রমনীর নাম পাওয়া গেছে। অন্যদের নাম এখনও পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে পঞ্চগড় এবং তেঁতুলিয়ার দমকল বাহিনীর দুইটি ইউনিট, পুলিশ, বিজিবিসহ স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর ৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাত ১১টায় উদ্ধার কাজ শেষ করা হয়েছে বলে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম আযম এ তথ্য জানিয়েছেন। দূর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে একটি বরযাত্রীবাহী বাস দাঁড়ানো ছিল। পোল বহনকারী ট্রাকটি ওই বাসটিকে পাশ কেটে যাওয়ার পথে পঞ্চগড় থেকে আসা (বিপরীত দিক থেকে আসা) যাত্রীবাহী মিনিবাসটিকে সরাসরি আঘাত করে। ট্রাকটি বাসটির একটি অংশে আঘাত করলে বাসের যাত্রীদের ৫ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এদের
মধ্যে ৩ জন যাত্রীর মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গোটা এলাকা রক্তে ভেসে যায়। হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নিরঞ্জন সরকার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি। ঘটনাস্থলে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পঞ্চগড় থানার এসআই আব্দুল জব্বার বলেন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবিসহ আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সার্জিকাল বিভাগের সার্জন ডা. আমির হোসেন বলেন, হাসপাতালে আমরা ৮ জনের লাশ শনাক্ত করেছি। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে আরও ২ জন নিহত হয়।

পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ আক্কাস আলী দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। চালক পালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম আযম বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহেতেশাম রেজাকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।