Search
Thursday 19 May 2022
  • :
  • :

নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম পৌর এলাকা

নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম পৌর এলাকা

সিলেট : সিলেটের পৌর এলাকাগুলোতে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ভোটাররাও হিসাব কষতে শুরু করেছেন। এবার সিলেটের চারটি পৌর সভায় চেয়ারম্যান পদে অর্ধশতাধিক ও কাউন্সিলর পদে কয়েকশ’ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের নিয়ে ভোটাররা সমীকরণ মেলাতে শুরু করেছেন। সিলেটের জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ এই তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিয়ানীবাজারে মামলা সংক্রান্ত কারণে পৌর নির্বাচন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা চলছে।

মামলার জটিলতা কাটাতে পারলে এবার প্রথমবারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। সিলেটের কানাইঘাট পৌরসভায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পৌরসভায় নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে। নতুন, পুরাতন প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের কাছে মনোয়নের জন্য ধরনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে কাউন্সিলর প্রার্থীরাও উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। ২০১১ সালের প্রথম পৌর নির্বাচনে মেয়র হন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান।

এবারও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে পারেন। তবে, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোয়ন প্রত্যাশী হয়ে মাঠে নেমেছেন। প্রার্থীদের তালিকায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক এভোকেট মামুন রশীদ, পৌর বিএনপির সভাপতি ও কাউন্সিলর শরীফুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাউন্সিলর রহিম উদ্দিন ভরসা, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হোসেন বুলবুল, পৌর জামায়াতের সহ-সভাপতি কেএইচএম ওলিউল্লাহ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আহমেদ। এছাড়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এমএ হান্নানও রয়েছেন তালিকায়।

গতবার তিনি প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। কানাইঘাটে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের রয়েছে শক্তিশালী প্রার্থী। গেল নির্বাচনেও তিন দলের তিন প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এসেছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধ হয়ে এই পৌরসভায় নির্বাচন করলে জয় অনেকটা সহজ হবে। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন জাতীয় পার্টির। এ কারণে জাতীয় পার্টিও এককভাবে প্রার্থী দেবে। আর এই প্রার্থীও চমক দেখাতে পারেন। সিলেটের গোলাপগঞ্জ শিক্ষামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা।

সিলেটের অন্যান্য উপজেলা থেকে নানাভাবে এগিয়ে এই উপজেলা। ওই উপজেলায় গেল উপজেলা নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে জামায়াত। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ইকবাল আহমদ চৌধুরীকে পরাজিত করেছে জামায়াতের প্রার্থী। কিন্তু পৌরতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে আওয়ামী লীগই। আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা জাকারিয়া আহমদ পাপলু দুইবারের পৌর মেয়র। নিজ দলের দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার নির্বাচন আসার আগেই ভোট বাড়াতে পাপলু কাজ শুরু করেছেন বলে তার দলীয় অনুসারীরা জানিয়েছেন। তরুণ শাসক হিসেবে পাপলুর জনপ্রিয়তা বেশি রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতাও এবার পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন। এর মধ্যে রয়েছেন, সাবেক পৌর প্রশাসক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাবেল।

আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিতেও পৌর মেয়র পদে রয়েছেন হেভিওয়েট প্রার্থী। জামায়াতও কৌশলী ভূমিকা নিয়ে এই পৌরসভায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ উপজেলায় বিএনপি থেকে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন, বর্তমান সভাপতি মশিকুর রহমান মহি, স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন, এমসি একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস আমিনুল ইসলাম আমিন। জাকারিয়া আহমদ পাপলু জানিয়েছেন, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সব পেশার সব শ্রেণীর মানুষ তাকে ভালোবাসেন। তিনি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে সকল দুর্যোগে, দুর্দিনে জনগণ তাকে হতাশ করেন না। বরং ভালোবেসে কোলে তুলে নেন। ২০১৪ সালের ২০শে জুলাই মারা যান জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সোনা মিয়া। তার মৃত্যুর পর এখানে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবদুল মালেক ফারুক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এবার প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর বাইরেও একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।

এর মধ্যে রয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমএজি বাবর, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিম আহমদ, উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শহীদ আহমদ, কাউন্সিলর বাবুল হোসাইন, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল আহাদ, পৌর আওয়ামী লীগ সদস্য আবদুর রহমান লুকু ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খলিল উদ্দিন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে দলীয় সমর্থনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুল হক বাদল। এছাড়া, পৌর আল-ইসলাহ্‌ সভাপতি ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী হিফজুর রহমান, খেলাফত মজলিস থেকে জাফরুল ইসলাম, জামায়াত থেকে ইমরান হোসেন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানা গেছে। -মানবজমিন




Leave a Reply

Your email address will not be published.