Search
Sunday 19 May 2019
  • :
  • :

তানোরে অজ্ঞাত রোগে ৬ জনের মৃত্যু

তানোরে অজ্ঞাত রোগে ৬ জনের মৃত্যু

রাজশাহী, ৫ ফেব্রুয়ারি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের বহরইল গ্রামে হঠাৎ করে অজ্ঞাত রোগে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে এক সপ্তাহে ওই গ্রামে পল্লী চিকিৎসকসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন আরো ছয়জন। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বা সবার মৃত্যু একই রোগে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ওই গ্রাম পরিদর্শন করতে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল রাজশাহী পৌঁছেছে। তাদের তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছয়জনের সাথে কথা বলে ওই গ্রাম পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদল গ্রামের কিছু মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। তারা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করবে কী রোগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাই এর আগে বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: রোজিয়ারা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, সর্বশেষ রোববার ইমাম আলী বাবু (৩৮) নামে এক পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি বহরইল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। রোববার ভোরে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। এ নিয়ে ওই গ্রামে এক সপ্তাহে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি নুরী বিবি (৬৫), জনাব আলী (৪৫) ও চার দিনের এক নবজাতক মারা যায়। এর একদিন পর ২৮ জানুয়ারি সমসের আলী (৬৫) এবং ২ ফেব্রুয়ারি রাহেলা বেগম (৪৮) নামের এক গৃহবধূ মারা যান।

আর অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন ওই গ্রামের জামেনুর রহমানের স্ত্রী শেফালি বিবি (৩৫), মৃত আনেসুর রহমানের স্ত্রী সেমেজান বিবি (৫০), আব্দুল গাফফারের স্ত্রী আপেজান বিবি (৪৮) ও দাউদ আলীর স্ত্রী বাদেনুর খাতুন (৩৫)। তাদের রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাতে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে জিয়াউল হক জিয়া (২৫) ও আব্দুল হকের ছেলে সানাউল্লাহকে (৩২)।

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে এবং বহরইল গ্রামের স্থানীয় অধিবাসীদের বরাত দিয়ে ডা: রোজিয়ারা খাতুন জানান, সুস্থ মানুষের হঠাৎ করে বুক জ্বালা, শরীরে ব্যথা ও খিঁচুনি শুরু হচ্ছে। এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনেরই মৃত্যু হয়েছে একইভাবে।

তিনি বলেন, ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিম শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহরইল গ্রামে গিয়ে মৃত্যুর কারণ ও নমুনা সংগ্রহ করেছে। তারা গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া পল্লী চিকিৎসক মারা যাওয়ার খবর পেয়ে সোমবার সকালে সেখানে ছুটে যান রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের ও রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা: সঞ্জিতকুমার সাহা। -নয়া দিগন্ত