Search
Tuesday 17 May 2022
  • :
  • :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৯ দফা দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ১৯ দফা দাবি

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর : বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে মানসম্মত খাবার, গবেষণাগার ও আবাসিক হলের পরিবেশ উন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে ১৯ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এসব দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

এর আগে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবিগুলো উত্থাপন করেন। ১৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মানসম্মত খাবার, শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা, সুপেয় পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বা কিস্তিতে ল্যাপটপ প্রদান ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সংযোগের (ওয়াই-ফাই) ব্যবস্থা করা, আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করা, গবেষণাগারের উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, আবাসিক হলের পরিবেশ উন্নয়ন, খেলার মাঠ ভাড়া না দেওয়া, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের ভূমিকা ত্বরান্বিত করা, দূরত্ব অনুযায়ী রিকশা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় ‘গেস্টরুম সংস্কৃতি’ নিয়ে। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটকে কাজে লাগিয়ে তারা জোর করে শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ করতে বাধ্য করেন। কথা না শুনলে বা কর্মসূচি পালন না করলে অতিথি কক্ষে ডেকে নিয়ে মারধরের একাধিক খবর গণমাধ্যমে এসেছে।

কিন্তু এই অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, কাউকে জোর করে ছাত্রলীগ করানো হয় না। কাউকে জোর করে ‘গেস্টরুম’ করানো হয় না। গেস্টরুমে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী পড়ানো হয়, দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। যারা এসব জানতে চান, তারা স্বেচ্ছায় ছাত্রলীগ করেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আমি নিজেও গেস্টরুম করেই আজকের আমি হয়েছি। এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। তাদের মধ্যে একটা গেট-টুগেদার হয় গেস্টরুমে। সেখানে একজন আরেকজনকে চিনতে পারেন। সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত বছরের ২৩ জুলাই প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে মোট ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘কথা না শোনার কারণে’ হল থেকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক শিক্ষকেরা তাদের কোনো খোঁজ নেন না। হলে ওঠানো থেকে শুরু করে, কে থাকবে না থাকবে, সবকিছুর নির্ধারক এখন ছাত্রলীগ। মূলত ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনগুলোই এ কাজ করে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা যদি সাংগঠনিক নীতি আদর্শে দণ্ডায়মান না হয়ে অন্যভাবে হতো, তবে এটি বিলুপ্ত হয়ে যেত। সাংগঠনিক নিয়ম শৃঙ্খলা তৈরি করার জন্য গেস্টরুম করা হয়।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিভিন্ন ‘অপকর্মের’ সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নের জন্য ছাত্রলীগ সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কোনো অপকর্মের জন্য অভিযুক্ত কাউকে ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে নেওয়া হবে না।

ডাকসুর ভূমিকায় ছাত্রলীগ
১৯ দফা দাবির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের না থাকা প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে ডাকসুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ছাত্রলীগ। আমরাও ডাকসু নির্বাচন চাই, কিন্তু জটিলতার কারণে প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন দিতে পারছে না।




Leave a Reply

Your email address will not be published.