Search
Friday 16 November 2018
  • :
  • :

জেলহত্যা দিবস আজ, জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

জেলহত্যা দিবস আজ, জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা

ঢাকা, ৩ নভেম্বর : কলঙ্কিত জেলহত্যা দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় মুক্তিযুদ্ধের চার সংগঠক- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। দেশকে পঙ্গু করে দেয়ার সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল কতিপয় সেনা কর্মকর্তা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক সরকার। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে এই কলংকের দাগ কখনই মুছবার নয়।

তেসরা নভেম্বর, ১৯৭৫ সাল। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার। ঘড়িতে তখন ভোর ৩টা ১৭ মিনিট। রাতের নিস্তবদ্ধতা ভেঙে হঠাৎই পাগলা ঘণ্টি বেজে ওঠে কারাগারে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কাৃরাগার জুড়ে। ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তার ঘনিষ্ঠ চার সহযোগী, জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান তখন এই কারাগারে বন্দি।

বঙ্গবন্ধুর খুনি মোশতাক সরকারের নির্দেশে তৎকালীন জেল কর্তৃপক্ষ কতিপয় সশস্ত্র সেনা সদস্যকে কারাগারে ঢুকতে দেয়। তারা ঠাণ্ডা মাথায় খুব কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চার বিশ্বস্ত সৈনিককে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করাই ছিল খুনিচক্রের এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য। কলংকিত জেলহত্যার দুই দশক পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জেলহত্যার বিচার শুরু করে। বিচার শেষে ২০০৪ সালে তৎকালীন সেনা সদস্য রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড ও আরো ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। মোসলেহ উদ্দিন ছাড়া বাকি দু’জনকে হাইকোর্ট খালাস দিলেও, ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপিল বিভাগ তিনজনেরই মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন। এরমধ্যে মোসলেহ উদ্দিন মারা গেছে পলাতক অবস্থায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি এখনো পলাতক।