Search
Friday 16 November 2018
  • :
  • :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

ঢাকা, ৫ নভেম্বর : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এ ঘোষণা দেন।

বি চৌধুরীও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন আমার সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন জানতে পেরে তিনি ওই সম্মেলনে আসেননি। তার পরও আমার দুঃখ নেই। এখন তিনি আসেননি, আশা করি ডিসেম্বরে তিনি আসবেন। আর যদি শেখ হাসিনাকে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও তার ছেলে মাহি বি চৌধুরীকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখার খায়েশ থাকে, তা হলে বাংলাদেশের মানুষ তাকে (বি চৌধুরীকে) চায় না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনের জন্য আজকে আমাদের এ সিদ্ধান্ত। এ সময় আজকের দিনটিকে তিনি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি দিন বলে মন্তব্য করেন এবং ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরদের মতো মুক্তিযোদ্ধা পাশে থাকলে এ লড়াইয়ে কেউ হারাতে পারবে না বলে দৃঢ়চিত্তে মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, একাত্তর সালে ইয়াহিয়া খানের মতোই আজকের যারা স্বৈরাচার তাদেরও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন সংযত ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে সরকার। আমরা এটিই চেয়েছিলাম। দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়। আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। এ লক্ষ্যেই আমি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একাত্মতা ঘোষণা করলাম। আমি এ মুহূর্ত থেকে ঐক্যফ্রন্টের অংশ।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণফোরাম নেতা মোস্তফা মহসীন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মফিজুল ইসলাম কামাল, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে চা খাওয়ার জন্য ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে যাবেন বলে ঘোষণা দেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

প্রসঙ্গত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার বিষয়ে এর আগেও কাদের সিদ্দিকীকে নিয়ে গুঞ্জন ছিল। গত ৩ নভেম্বর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। শনিবার জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ আয়োজিত সভায় তিনি ঘোষণা দেবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

কিন্তু সভার শুরুতে বিপত্তি দেখা দেয়। বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি বি চৌধুরী সভায় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ড. কামাল হোসেন উপস্থিত থাকায় সভায় আসেননি বি চৌধুরী।

ওই সভায় কাদের সিদ্দিকী তার বক্তব্যের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য আরও দুদিন অপেক্ষা করতে বলেন। বি চৌধুরীর সঙ্গে আলোচনা করে সার্বিক ঐক্যের জন্য তিনি সময় নেন বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, যদি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ইচ্ছে থাকে, তা হলে ৫ তারিখ বিকাল সাড়ে ৪টায় দলবল নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় গিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করবেন।

তিনি বলেন, ‘সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আমাকে যোগ দিতে বলেন। আমি যদি যোগ দিই, তা হলে মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করব। আর যদি আপনাদের সঙ্গে নাও থাকতে পারি, তাও জানিয়ে দেব। তবে যেদিন প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সঙ্গে সংলাপ করেছেন, আপনাদের বিজয় হয়েছে। আমি যেখানেই থাকি না কেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের আগে মনে হয়েছিল আওয়ামী লীগ ২০ সিট পাবে উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘গত চার দিন ধরে আমরা দেখছি- আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ১৯ সিট পাবে। এর বেশি পেলে আমাকে সাজা দিয়েন।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচনের জন্য আজকে আমাদের এ সিদ্ধান্ত। এ সময় আজকের দিনটিকে তিনি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ একটি দিন বলে মন্তব্য করেন এবং ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, সুলতান মোহাম্মদ মনসুরদের মতো মুক্তিযোদ্ধা পাশে থাকলে এই লড়াইয়ে কেউ হারাতে পারবে না বলে দৃঢ়চিত্তে মন্তব্য করেন তিনি।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, একাত্তর সালে ইয়াহিয়া খানের মতোই আজকের যারা স্বৈরাচার তাদেরও আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় চার নেতার স্বপ্নকে সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর চিন্তাতেও ছিল জাতীয় ঐক্য। এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলব আমরা।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার অনেকে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কেউ পারেননি। স্বৈরাচারও চেষ্টা করেছেন। আগামীতেও কেউ ধ্বংস করতে পারবেন না। বাঙালিকে কেউ পরাজিত করতে পারেননি। জাতির পিতা সেটি প্রমাণ করেছেন।’ সূত্র: যুগান্তর