Search
Sunday 28 February 2021
  • :
  • :

ছেলের পাশে শায়িত হলেন এটিএম শামসুজ্জামান

ছেলের পাশে শায়িত হলেন এটিএম শামসুজ্জামান

বিনোদন ডেস্ক : রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে বড় ছেলের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। শনিবার বাদ আসর সূত্রাপুর জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে জুরাইন কবরাস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে বাদ জোহর নারিন্দায় পীর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার সকাল ৯টার দিকে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এটিএম শামসুজ্জামান। কিংবদন্তির বিদায়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে উঠেছে শোবিজ অঙ্গন। কয়েক দফায় অসুস্থ ছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থও হয়েছিলেন। বাসায় ফিরে বিশ্রামেও ছিলেন। কিন্তু এবার আর তাকে আটকানো গেল না। পুরান ঢাকার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত জনপ্রিয় এ অভিনেতা।

প্রথম জানাজা শেষে সূত্রাপুরে কমিউনিটি সেন্টারে তার মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধাতে সর্বস্তরের মানুষ। আসেন মিডিয়ার অনেকেই। পরে সূত্রাপুর জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা হয়। চিরনিদ্রায় শায়িত হোন জুরাইন কবরস্থানে।

আবু তাহের মোহাম্মাদ (এটিএম) শামসুজ্জামান ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর বিষকন্যা সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করেন।

অভিনেতা হিসেবে তার অভিষেক হয় ১৯৬৫ সালে। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমণি’ চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় আসেন।

কিংবদন্তি এ কমেডিয়ান ও খল অভিনেতা ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘দায়ী কে’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ১৯৯৯ সালে ‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমায় কমেডিয়ান চরিত্রে, ২০০১ সালে ‘চুড়িওয়ালা’, ২০০৯ সালে ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ২০১২ সালে ‘চোরাবালি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য এবং ২০১৭ সালে ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন এই অভিনেতা।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।