Search
Wednesday 13 December 2017
  • :
  • :

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক, ১১ অক্টোবর : ১৯৮৫ সালে প্রথমবার এশিয়া কাপ হকির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামের (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) ঘাসের মাঠে ইরানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুন সূচনা করেছিল লাল সবুজের দল। ৩২ বছর পর আবারও আয়োজক বাংলাদেশ। তিন দশকেরও বেশি সময় পর বদলে গেছে অনেক কিছুই। ঘাসের মাঠের বদলে এসেছে অ্যাস্ট্রো টার্ফ। বসেছে ফ্লাডলাইট। কিন্তু যা দরকার তা কি হয়েছে? খেলা দেখে মনে হচ্ছে না। ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে জিমি-চয়নরা।

বুধবার (১১ অক্টোবর) সন্ধায় মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দশম আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৭-০ গোলে হেরে বাজে শুরু করেছে বাংলাদেশ হকি দল। বদলতে গেলে এদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিক দলের খেলোযাড়রা। জিমি, চয়ন আর আশরাফুলদের খেলা দেখে যারপর নাই হতাশ দর্শকরা। অথচ দলকে উৎসাহ দিতে এদিন প্রচুর দর্শক এসেছিলেন স্টেডিয়ামে। লাল সবুজের পতাকা নিয়ে প্রায় মাঠের চারিদিকের গ্যালারিতে অবস্থান নিয়ে ছিলেন তারা। কিন্তু শেষ অবধি হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।

৬০ মিনিটের খেলায় মাত্র একবার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেটিও কাজে লাগেনি। ২৮তম মিনিটে অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমির জোড়াল হিট বাড়ে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া আর কোনো আক্রমণই রচনা করতে পারেনি বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ম্যাচে সারওয়ার হোসেনের অভাব ভাল ভাবেই টের পেয়েছে বাংলাদেশ। নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে পুরা টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন না তিনি। পাকিস্তানের হয়ে দুইটি করে গোল করেছেন আরসালান কাদির, শাকিল বাট ও আবু মাহমুদ। একটি গোল করেছেন রশিদ মাহমুদ।

উদ্বোধনী ম্যাচে জাপানকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে ভারত। জাপানকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে বর্তমান রানার আপরা। ভারতের হয়ে দুইটি গোল করে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন হারমানপ্রিত সিং। একটি করে গোল করেছেন রামানদ্বীপ, এসবি সিং ও উপাধ্যায় সিং। জাপানের পক্ষে একটি গোল পরিশোধ করেন কিতাজাতো কেনজি।

এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার মার্শাল আবু এসরার, এশিয়ান হকি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাইয়াব ইকরাম প্রমুখ।

এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে এশিয়ার সেরা আটটি দেশ। দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে দলগুলো। পুল ‘এ’-তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও বাংলাদেশ। পুল ‘বি’-তে আছে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ওমান। দুটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল খেলবে সেমিফাইনাল। ২২ অক্টোবর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এশিয়া কাপ হকির। চ্যাম্পিয়ন দলটি ২০১৮ সালে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ হকিতে খেলার সুযোগ পাবে।

এশিয়া কাপ হকির যাত্রা শুরু ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের করাচিতে। দ্বিতীয় আসর বসেছিল ঢাকায় ১৯৮৫ সালে। সর্বশেষ সাতবারের চারবারই হয়েছে মালয়েশিয়ায়। দু’বার ভারতে (নয়াদিল্লি ও চেন্নাই) এবং একবার জাপানের হিরোশিমায়। আগের নয় আসরের পাঁচটিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ায় গত আসরে আট দলের মধ্যে অষ্টম হয় জিমি-বাহিনী। ৩২ বছর পর আবারও এমন বড় আসর আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।