Search
Tuesday 17 May 2022
  • :
  • :

খালেদা জিয়ার ফিরতে আরো দেরি হতে পারে

খালেদা জিয়ার ফিরতে আরো দেরি হতে পারে

ঢাকা : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে আরও দেরি হতে পারে। দলের পক্ষ থেকে তাঁর দেশে ফেরার সঠিক দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নেতারাও নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

তবে বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য তারিখ আছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর একটি চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। অন্যটিতে হয়নি। তা ছাড়া তাঁর হাঁটুর চিকিৎসা চলছে। লন্ডনে খালেদা জিয়ার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। অন্য চোখেও অস্ত্রোপচার করা দরকার। সেটি হলে তাঁর ফিরতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ হতে পারে। এর আগে চলতি মাসের ৮, ১৬ ও ২১ তারিখ তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাব্য তারিখ ছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া।

পরপর দুই দফা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান খালেদা জিয়া। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাকিয়ে আছেন লন্ডনের দিকে। দলের দুই শীর্ষ নেতা সেখানে। দেশে আটকে আছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক সাংগঠনিক ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবেন। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে এসবের বাস্তবায়ন শুরু হবে। তাই কবে নাগাদ খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন, আর কী সিদ্ধান্ত আসছে—এসব নিয়ে নেতা-কর্মীদের আগ্রহ বাড়ছে।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ প্রতিবেদককে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার সঠিক দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। চেয়ারপারসনের একটি চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরেকটি চোখেরও চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে আছেন।

বিএনপির সূত্র জানায়, চিকিৎসার বাইরে খালেদা জিয়ার এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য আছে বলে দলের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন লন্ডন যাওয়ার আগে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সে কাজও চলছে। তবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মতামতই শেষ পর্যন্ত গুরুত্ব পাবে। বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের বিভিন্ন শাখার কমিটি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন আটকে আছে। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে এই কমিটিগুলো করা হবে। এ ছাড়া দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চেয়ারপারসন দেশে না থাকায় এই নির্বাচনে যাওয়া না-যাওয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, এই নির্বাচন নিয়ে তাঁদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। একটি হলো নির্বাচন প্রতিহত করা অথবা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া। খালেদা জিয়া ফিরলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর বাইরে সামনে বিএনপিকে একটি ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায়ের রিভিউ আবেদন আগামী মাসে আপিল বিভাগে উঠবে। ২ নভেম্বর শুনানির কথা আছে। তবে প্রধান বিচারপতির ৩ নভেম্বর দেশের বাইরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আপিল রিভিউ আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে। যদি আসামিপক্ষের রিভিউ পিটিশন আদালত খারিজ করে দেন তাহলে সরকার রায় আগামী মাসেই কার্যকর করতে পারবে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও উচ্চ আদালতের রায়ের পর বিএনপি প্রতিক্রিয়ায় বলেছিল, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ন্যায়বিচার পাননি। তারা আশা করছে, আিপলে তিনি ‘ন্যায়বিচার’ পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদেরের ফাঁসির আদেশ বহাল থাকলে বিএনপির অবস্থান কী হবে—তা নিয়েও দলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে।

সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এ প্রতিবেদককে বলেন, তারেক রহমানকে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতা বিবেচনা করা হয়। তাই আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচনে তাঁর মতামত গুরুত্ব পাবে, এটা স্বাভাবিক। দলে এখনো তাঁর যথেষ্ট প্রভাব আছে। পুনর্গঠনের মাধ্যমে তাঁর সেই প্রভাব আরও জোরালো করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার চিন্তা আছে। তাতে সাংগঠনিক কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ জাতীয় স্থায়ী কমিটির কয়েকটি পদে পরিবর্তন আসতে পারে। বিএনপির অন্য একটি সূত্র জানায়, দল পুনর্গঠনের পাশাপাশি খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। জোট না করে সরকারের বাইরে থাকা দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে চায় বিএনপি। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান এ প্রতিবেদককে বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ব্যক্তিগত সম্পর্কে মা-ছেলে, পাশাপাশি তাঁরা দুজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা। দীর্ঘদিন পর তাঁদের দেখা হয়েছে। সেখানে দলের কর্মপরিকল্পনা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুজনের ভাবনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে, এটা স্বাভাবিক। -প্রথম আলো




Leave a Reply

Your email address will not be published.