Search
Tuesday 17 July 2018
  • :
  • :

কোটা সংস্কার: প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা আন্দোলনের ঘোষণা

কোটা সংস্কার: প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা আন্দোলনের ঘোষণা

ঢাকা, ১১ এপ্রিল : দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এই ঘোষণা দেন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক মো. রাশেদ খান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে কোটা সংস্কারের সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এরপর রাজু ভাস্কর্য ছাড়তে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

কোটা সংস্কার নিয়ে সোমবার সরকারের আশ্বাস মানা আর না মানা নিয়ে যে বিভক্তি দেখা দেয়; মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তা ঘুচিয়ে ওই এলাকায় একসাথে হন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের একাংশের প্রতিনিধি রাশেদ খান।

তিনি বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। কিন্তু জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদেরসহ ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

রাশেদ বলেন, আমরা কৃষিমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেননি। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আজ ঘোষণা দিয়েছেন আগামী বাজেটের আগে কোটা সংস্কার করা হবে না। এ কারণে আমরা আবার আমাদের নিয়মিত কর্মসূচিতে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সোমবার সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আমাদের সিদ্ধান্ত আন্দোলনকারীদের একাংশ না মেনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজ থেকে আবার আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করব।

রাশেদ বলেন, আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা বাংলাদেশের রাস্তা অবরোধ করা হবে।

এসময় পরিষদের যুগ্ম-সমন্বয়ক নুরুল হক, ফারুক হাসান, মাহফুজুর রাহমানসহ ২০জন প্রতিনিধি দলের সবাই উপস্থিত ছিলেন। তবে আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসান আল মামুনকে সেখানে দেখা যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন তারা। দাবিগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কোটা সংস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে, আন্দোলনে আটক ছাত্রদের অবিলম্বে মুক্তি এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এরপর কয়েক হাজার শিক্ষার্থীসহ গ্রন্থাগারের সামনে দিয়ে মিছিল বের করে রাজু ভাস্কর্য ঘুরে শহীদ মিনার, পলাশী হয়ে আবার রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীদের এই অংশ। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন অন্য অংশের কর্মীরা।

রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেওয়ার পর স্লোগান ও মিছিল দিতে থাকেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে কৃষিমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তারা।

সরকারি চাকরির ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কোটার প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গত কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, ১০ শতাংশের বেশি কোটায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ নিয়ে টানা আন্দোলন চললেও রেববার তা সহিংস রূপ নেয়। এদিন শাহবাগ মোড় চার ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার পর পুলিশ আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে এবং রাবার বুলেট-কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে সরিয়ে দেয়।

এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা হল থেকে বেরিয়ে এসে টিএসসিতে অবস্থান নেন। টিএসসিসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাতভর পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

সোমবার সকালেও ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলতে থাকে। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিকেলে সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল।

ওই বৈঠকে আগামী ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের বলেন, তরুণদের দাবি যৌক্তিক হলে তা উপেক্ষা করা হবে না। আগামী মে মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত সরকার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। এ পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন স্থগিত রাখবে।

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের ওই প্রতিনিধিদল ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।

পরে সন্ধ্যায় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাজু ভাষ্কর্যে এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে প্রতিনিধিদের এ বক্তব্যে তাৎক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীদের একাংশ। আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিলে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

আন্দোলনে অংশগ্রণকারী এই অংশের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে রাত ১০টার দিকে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় আন্দোলন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়ে ফিরে যান তারা।

এক পর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শ্লোগান দিতে দেখা গেছে তাদের।

এরই মধ্যে আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া অংশটি সন্ধ্যায় আবার রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে অবস্থান নেয়। সূত্র: সমকাল