Search
Thursday 26 November 2020
  • :
  • :

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু

করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জনের মৃত্যু

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর : দেশে করোনায় আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ১৭৩ জনে দাঁড়াল। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৩১ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৬ জন হল।

শনিবার বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ১ হাজার ৫৩১ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ৪৯৬ জন হল। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৬ হাজার ১৭৩ জনে দাঁড়াল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৪৬২ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৯ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। ২৬ অক্টোবর দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ পেরিয়ে যায়।

এদিকে করোনার সর্বগ্রাসী দাপটে দিশেহারা বিশ্ব। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনা কেড়ে নিয়েছে আরো ৯ হাজার ৯৪২ প্রাণ। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৬ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। ফলে করোনা সতর্কতায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিশ্বের অনেক দেশ।

করোনা নিয়ে আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ১৮০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ৯ হাজার ১৪৭ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৯ হাজার ৫১০ জন।

সংক্রমণ ও মৃত্যুতে সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৬৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৭৫ জনের।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৪৩ জন এবং মারা গেছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২২৫ জন।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৪৯৬ জনের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৬ জনের।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৯ লাখ ২২ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৩ হাজার ৮৯২ জন।

পঞ্চম স্থানে উঠে আসা ইউরোপের দেশ রাশিয়ায় করোনায় সংক্রমণের সংখ্যা ১৮ লাখ ৮০ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩২ হাজার ৪৪৩ জনের।

প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে বাংলাদেশেও। ২৪ নম্বর অবস্থানে থাকা বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ২৮ হাজার ৯৬৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৫৯ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৩৮৭ জন।

এদিকে করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে টিকার দিকে। বিশ্ববাসীকে আশা দেখাতে শুরু করেছে ফাইজারের টিকা। কিন্তু এরকম সময়ে টিকাটির ব্যাপারে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এলো মনখারাপ করা খবর।

জানা গেছে, এ টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। ফলে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবে না। এছাড়া দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর পুরো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না।

মার্কিন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ঘোষণা দিয়েছে তাদের উদ্ভাবিত কোভিডের ভ্যাকসিন ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর। তবে অধিক কার্যকারিতার জন্য ভ্যাকসিনটির দুটি ডোজ প্রয়োজন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর হয়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানের দুটি ডোজ দেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাকসিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) জরুরি ব্যবহার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণ করতে হবে মাইনাস ৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। এ কারণে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই ভ্যাকসিন বন্টন সহজ হবেনা। দুটি ডোজের প্রয়োজন হওয়ায় সকলেই দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করবে এর শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়াও কঠিন।

গবেষণায় দেখা গেছে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) ভ্যাকসিন গ্রহণকারী এক তৃতীয়াংশ নারীই পরবর্তীতে দ্বিতীয় ডোজ নেননি।

এদিকে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন দেয়ার পর মানবদেহে কতোদিন অ্যান্টিবডি থাকে তা নিয়েও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি এখনো। তবে পুনরায় আক্রান্ত হতে পারে অনেকেই এমন প্রমাণও পাওয়া গেছে। আক্রান্ত হওয়ার পর বা ভ্যাকসিন গ্রহণের পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হলেও তা কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।

ডিজিজ ইকোলজিস্ট মার্ম কিলপ্যাট্রিক জানান, অ্যান্টিবডি ক্ষণস্থায়ী হলে বুস্টার শট দেয়ার পরিকল্পনা প্রয়োজন।