Search
Wednesday 18 May 2022
  • :
  • :

‘ইসলাম গ্রহণ’ করলেন পুলিশকর্তা, তবে মতলবটা ভিন্ন

‘ইসলাম গ্রহণ’ করলেন পুলিশকর্তা, তবে মতলবটা ভিন্ন

নিউইয়র্ক: আমেরিকার ব্রুকলিন কলেজের মুসলিম ছাত্রদের একটি সমাবেশ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এক নারী দাঁড়িয়ে কালেমা শাহাদাৎ পড়তে চাইলেন অর্থাৎ তিনি ইসলাম গ্রহণ করতে চান।

ধূসর চামড়া ও কালো চুলের ২০ বছর বয়সী মেয়েটি উপস্থিত ছাত্রদের কারোই পরিচিত নয়। ‘মেলিকা সের’ বা ‘মেল’ নামের মেয়েটি কলেজের সাথেও সম্পর্কিত নয় কিন্তু তারপরেও তার ইসলাম গ্রহণের কথা শুনে সবাই সানন্দেই তাকে কালেমা পড়তে সাহায্য করে এবং নিজেদের একজন হিসেবে গ্রহণ করেন।

মেলের ইসলাম গ্রহণের ৪ বছর পর এই এপ্রিলে কুইন্স শহরের অধিবাসী ব্রুকলিন কলেজের দুই মুসলিম ছাত্রী নোয়েল ভেলেনটাস ও আসিয়া সিদ্দিকীকে বোমা বানানোর সাথে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই দুই নারী আল-কায়েদা ও আইএসের সাথে জড়িত এবং আরো বলেছে নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তাদেরকে বিচারের আওয়াত আনার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রীদ্বয়ের শুভাকাঙ্খী ও বন্ধুরা টেক্সট মেসেজ ও ফেসবুক পেজে একটি কথাই বলছে। ‘মেল’ আসলে মেল নয় সে হলো ছদ্মবেশী পুলিশ।

ওই ছদ্মবেশী পুলিশের সাথে ঘনিষ্ঠ তিনজন ব্রুকলিনের ছাত্রী বলেন, তিনি মুসলিম ছাত্রদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অনেকের ব্যক্তিগত জীবনের কথাও জানে।

মেলের সাথে ১ বছর আগে ব্রুকলিন কলেজের নামাজ ঘরে পরিচিত হওয়া ৩০ বছর বয়সী জেহান বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত। আপনি কাউকে বিশ্বাস করলেন এবং তার সাথে কথা বললেন এবং জানতে পারলেন সে আপনার কমিউনিটির ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে।’

ভেলেনটাস ও আসিয়ার মামলার ব্যাপারে তেমন কিছু না জানা গেলেও নিউইয়র্ক পুলিশের ছদ্মবেশী গোয়েন্দা মেলই যে তাদেরকে গ্রেপ্তারে ভূমিকা পালন করেছে সেটা নিশ্চিত।

শুধুমাত্র মেলই নয়, নিউইয়র্ক পুলিশের আরো বেশকিছু সদস্য মুসলিম ছাত্রের ছদ্মবেশে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ মুসলিমদের গতিবিধি নজরদারি করছে।

নিউইয়র্ক পুলিশ এই কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘কম্বল নজরদারি’।

তবে পুলিশের এ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে ব্রুকলিন কলেজ কর্তৃপক্ষ কিছু জানে না বলে তারা জানিয়েছে এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অবিলম্বে এসব কাজ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

৯/১১’র পরে শুধু নিউইয়র্ক নয়, গোটা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। প্রতিনিয়তই বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণের শিকার হচ্ছেন নিরপরাধ মুসলিমরা।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড বুলেটিন




Leave a Reply

Your email address will not be published.