Search
Friday 19 October 2018
  • :
  • :

ইভিএমে নৌকা-ধানের শীষ সমানে সমান

ইভিএমে নৌকা-ধানের শীষ সমানে সমান

খুলনা, ১৬ মে : ‘ভোট কাটাকাটি, ব্যালট ছিনতাই ও সিল মারার চেয়ে আমাদের ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভালো। কোনো ঝামেলা নেই। দুই দিন ট্রেনিং দিছি। তাতে সুবিধা হইছে, সময় কম লাগছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে ভালোই লাগল।’

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার পিটিআই কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট দিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

শিল্প নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) স্কুল কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে সোনাপোতা কেন্দ্রে ছিলেন এক হাজার ৯৯ জন নারী আর পিটিআই কেন্দ্রে ছিলেন এক হাজার ৮৭৯ জন পুরুষ ভোটার। সোনাপোতা কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ২৭২ ও বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ১৯৯ ভোট পেয়েছেন। পিটিআই কেন্দ্রে তাঁরা ভোট পেয়েছেন যথাক্রমে ৫০৪ ও ৫১১।

পিটিআই কেন্দ্রে ছয় বুথে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণকালে একটি লাইন থাকায় ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। আবার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভোটার নম্বর না মেলায় বেশ কয়েকজন ভোট দিতে পারেননি। তাঁদেরই একজন শাহ আলম শিকদার বলেন, ‘নম্বর না মেলায় ভোট দিতে পারছি না। বেশ সমস্যায় আছি।’

পিটিআই কেন্দ্রে নতুন ভোট দিতে আসা সাগর হোসেনও উচ্ছ্বসিত। বললেন, ‘আমরা নতুন প্রজন্ম, ভোটও দিচ্ছি ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এটা অন্যরকম এক অনুভূতি।’ ওই কেন্দ্রের বানিয়াখামের বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, ‘সিল নিয়ে ভোট দিলে অনেক সময় ভোট নষ্ট হয়। এখানে সেই আশঙ্কা নেই। ভোট দিয়ে ভালোই লাগল।’

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার অধ্যাপক মো. মামুম হোসেন সকাল সোয়া ১১টার দিকে বলেন, ‘আমার কেন্দ্রে এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ভোট পড়েছে। ভোটারদের আগ্রহ ভালো। এ পদ্ধতিতে কারচুপির সুযোগ নেই বলেই আমি মনে করি। আবার ব্যালটও ছিনতাই হবে না।’

নারী ভোটাররাও ইভিএমে ভোট দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। ইকবাল নগর মসজিদ লেনের বাসিন্দা নতুন ভোটার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাসমিয়া শারমিন ভোট দেন সোনাপোতা স্কুলকেন্দ্রে। তিনি বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতির ভোট খুবই সহজ। এবার প্রথম ভোট দিলাম, খুবই ভালো লেগেছে। ভোটের জন্য এটা ভালো ব্যবস্থা।’

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এখানে স্বাভাবিক নিয়মে ভোট হয়েছে। নারী ভোটাররা উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। ইভিএমের ব্যবহার চালু হলে ভোটাররা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’