Search
Wednesday 18 May 2022
  • :
  • :

ইতিহাসের এ দিনে : ২৯ অক্টোবর

ইতিহাসের এ দিনে : ২৯ অক্টোবর

১৯২৩ সালের এই দিনে তুরস্কে আতাতুর্ক নামে খ্যাত মোস্তফা কামাল পাশা প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেন। ওসমানী সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার তুরস্ক ৬২৩ বছর পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের প্রেক্ষাপটে বিভক্ত হয়ে যায়। আতাতুর্ক ১৫ বছর তুরস্কের ওপর স্বৈরাচারী শাসন চালায়। তার শাসনামলে ইসলামী মূল্যবোধগুলোকে পরিহার করে তুরস্কে পশ্চিমা নীতি ও সংস্কৃতি চালু করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। ১৯৩৮ সালে আতাতুর্কের মৃত্যুর পর সেই প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ১৯৪৫ সাল থেকে তুরস্কে যদিও বেশ কটি দল গণতন্ত্রের জন্যে প্রস্তুতি নেয়,তারপরও ধর্মনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা রক্ষার দাবীদার সেদেশের সামরিক বাহিনী তুরস্কের আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কিন্তু-  তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার ব্যাপক চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার পরও সম্প্রতি দেখা গেছে সেদেশের জনগণের মাঝে ইসলামে দীক্ষিত হওয়া বা ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ইউরোপের একটি প্রতিবেশী দেশ। ইরান, ইরাক, সিরিয়া, আর্মেনিয়া, জর্জিয়া, আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র, বুলগেরিয়া এবং গ্রিসের প্রতিবেশী এই দেশটির আয়তন ৭ লাখ ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটার।

১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে-  ইহুদিবাদী ইসরাইলী সেনারা মিশরে অবস্থিত সিনাই উপদ্বীপে হামলা চালিয়েছিল। মিশরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জামাল আব্দুন নাসের সুয়েজ খালকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া এবং ইসরাইলী জাহাজ চলাচলের এই পথটি বন্ধ করার কারণে এই হামলা শুরু হয়েছিল। ইসরাইল চেয়েছিল মিশরে এই হামলা চালিয়ে তাদের জাহাজ চলাচলের জন্যে রেড সী’র প্রান্তীয় আকাবা উপসাগর দখল করে নেবে। দুদিন পর বৃটেন এবং ফ্রান্সও ইসরাইলের সমর্থনে সুয়েজ খালের আশেপাশে তাদের ছত্রীসেনাদের নামায়। এই ত্রিপক্ষীয় হামলার উদ্দেশ্যটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করা থেকে মিশরকে বিরত রাখা। সুয়েজ খালটি ভূমধ্যসাগরকে রেড-সী’র সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যম ছিল। যাই হোক এ অঞ্চলটি যদিও একটা সময়ের জন্যে আগ্রাসী শক্তির দখলে ছিল,তারপরও বিশ্বজনমতের চাপের মুখে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর চাপের মুখে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় আগ্রাসী শক্তিগুলো মিশরের মাটি ত্যাগ করে। দিনটি ছিল ১৯৫৭ সালের মার্চ মাস। এই যুদ্ধটি সুয়েজ যুদ্ধ নামে ইতিহাসে প্রসিদ্ধ।

১৯৫৬ সালের এই দিনে ইসরাইলীরা ফিলিস্তিনের কাফার কাসেম গ্রামের অধিবাসীদের ওপর গণহত্যা চালায়। মিশরে হামলা করার পাশাপাশি একইদিনে ইসরাইলী সেনারা কোনোরকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই কাফার কাসেম গ্রামে হামলা চালিয়ে সামরিক শাসন ঘোষণা করে। ইসরাইলী সেনারা এইদিন নারী-শিশুসহ অন্তত ৪৯ জন নিরীহ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে এবং আরো বহু ফিলিস্তিনীকে আহত করে। কয়েক মাস পর ফিলিস্তিনী জনগণ কাফার কাসেম গ্রামের লোকজনের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। কুদস দখলদার ইসরাইলীরা ফিলিস্তিনীদের প্রতিবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাহ্যত ঐ গণহত্যার সাথে জড়িত কয়েকজনের বিচার করে। কিন্তু ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে বিচারে দণ্ডপ্রাপ্তদের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

১৯৮৭ সালের এই দিনে ককেশাসের গুলিস্তান নামক একটি গ্রামে জার শাসনামলের রাশিয়ার সাথে ইরানের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ঐ গ্রামের নামানুসারে চুক্তিটির নাম হয় গুলিস্তান চুক্তি। ইরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার গোর উযালি এবং ইরানের প্রতিনিধি হাজ্ব মির্যা আবুল হোসাইন খান এইলচির মধ্যস্থতায় একটি ভূমিকা এবং ১১টি ধারা সম্বলিত ঐ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ইরান এবং রাশিয়ার মাঝে ১০ বছর যুদ্ধ চলার পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজার শাসকদের মনোযোগের অভাবে ইরানের সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং এর পরিণতিতে ইরানের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় বেশ কিছু ভূখণ্ড রাশিয়ার অধীনে চলে যায়। এইসব ভূখণ্ডের মধ্যে ছিল গাঞ্জে,শিরওয়ান,বাকু, দাগেস্তান এবং জর্জিয়া থেকে পারস্য উপসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা।




Leave a Reply

Your email address will not be published.