Search
Thursday 19 May 2022
  • :
  • :

ইতিহাসের এ দিনে : ২৭ অক্টোবর

ইতিহাসের এ দিনে : ২৭ অক্টোবর

১৯০৫ সালের ২৭শে অক্টোবর নরওয়ে সুইডেনের কাছ থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। চৌদ্দশত বছর আগে নরওয়ে একটি শক্তিশালী ও ঔপনিবেশবাদী দেশ হিসাবে সুপরিচিত ছিল। ১৩৮০ সালে দেশটি ডেনমার্কের অধিনস্ত হয় এবং প্রায় চার যুগ ধরে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু ১৮১৪ সালে ভিয়েনার কংগ্রেস নেপোলিয়ানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতার পুরস্কার হিসাবে নরওয়ের নিয়ন্ত্রণভার সুইডেনের কাছে হস্তান্তর করে। এতে নরওয়ের অধিবাসীরা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯০৫ সালে নরওয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। নরওয়ের আয়তন ৩২৪ হাজার বর্গ কি:মি:। এটি উত্তর ইউরোপে অবস্থিত এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলো হচ্ছে সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া।

১৯১০ সালের ২৭শে অক্টোবর জাপান রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক বছর যুদ্ধ পরিচালনার পর বিজয় লাভ করে এবং কোরিয় ভূখণ্ডকে নিজ দেশের সাথে সংযুক্ত করে। জাপানের এ পদক্ষেপ কোরিয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক বিরোধীতা ও ক্ষোভের সঞ্চার করে। কিন্তু ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের আগ পর্যন্ত কোরিয়া জাপানের দখলে ছিল। পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন কোরিয়ার উত্তরাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ার দক্ষিণাংশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। ফলে কোরিয় উপদ্বীপ উত্তর ও দক্ষিণাংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং এ বিভক্তি আজও অব্যাহত রয়েছে।

১৯৫৮ সালের এই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খান রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর জেনারেল আইয়ুব খান দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি জয়ী হলেও দেশে আর্থ-রাজনৈতিক সংকট দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনগণ তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৬৯ সালে তিনি নিজ জামাতা জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

১৯৯১ সালের এই দিনে তুর্কমেনিস্তান সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। অতীতে তুর্কমেনিস্তান পারস্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগারো শতাব্দীতে মধ্য এশিয়ার তুর্কমেনীয় গোত্রের সমন্বয়ে গঠিত ইরানের সালজুকি রাজবংশ পারস্যের ক্ষমতা দখল করে। কিন্তু পরবর্তীতে মোগলদের আক্রমনে এই রাজবংশের পতন ঘটে। উনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তানে তার অধিপত্য বিস্তার করে এবং ১৮৮১ সালে এক যুদ্ধের মাধ্যমে রাশিয়া তুর্কমেনিস্তানকে পরাজিত করে। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর তুর্কমেনিস্তান কম্যুনিষ্টপন্থী ও জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ দেখা দেয়। এতে কম্যুনিষ্টরা বিজয়ী হয় এবং ১৯২৪ সালে তুর্কমেনিস্তান রাশিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের প্রক্রিয়া শুরু হলে তুর্কমেনিস্তানও স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তুর্কমেনিস্তানের আয়তন ৪৮৮ হাজার বর্গ কি:মি:। এর প্রতিবেশী দেশগুলো হচ্ছে, ইরান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তানক, কাজাকিস্তান ও কিরঘিজিস্তান।

৩৮১ হিজরীর ২৭শে শাওয়াল ইরানের বিশিষ্ট দার্শনিক ও পন্ডিত আবুল হাসান আমেরী নিশাবুরী ইরানের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় খোরাসান প্রদেশে পরলোক গমন করেন। ইরানের স্বনামধন্য ও বিজ্ঞ দুজন দার্শনিক ফারাবী ও ইবনে সীনার মাঝামাঝি কালে আবির্ভুত এই মহান দার্শনিককে ইসলামের প্রাচীন যুগের দার্শনিকদের মাঝে সেতুবন্ধন রচনাকারী হিসাবে গণ্য করা যায়। আবুল হাসান আমেরি দর্শন শাস্ত্রে সুপন্ডিত ও নিজস্ব মতাদর্শের অধিকারী ছিলেন। তিনি ধর্ম ও নৈতিকতার উপরও ব্যাপক গবেষণা করেছেন এবং এসব বিষয়ের উপর মূল্যবান বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি মনে করতেন, দর্শন হচ্ছে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও বিবেক বুদ্ধির ফসল, আর মানুষের বুদ্ধি ও বিবেক আল্লাহর আনুগত্যকে কখনও অস্বীকার করতে পারে না। এই বিশিষ্ট মুসলিম দার্শনিকের মূল্যবান গ্রন্থাবলী আজও জ্ঞান-পিপাসুদের তৃষ্ণা নিবারণ করে চলেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.