Search
Sunday 22 May 2022
  • :
  • :

ইতিহাসের এ দিনে : ১১ নভেম্বর

ইতিহাসের এ দিনে : ১১ নভেম্বর

১৪৯৮ সালের এ দিনে পর্তুগালের বিখ্যাত নাবিক ভাস্কো দা গামার সমূদ্র অভিযান শুরু হয়। আফ্রিকা মহাদেশের চারদিকে ঘুরে ভারতবর্ষে আসার সমূদ্রপথ আবিস্কার ছিল ভাস্কোদাগামার ঐ অভিযানের মূল লক্ষ্য। তিনি সে লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা উপকূল পাড়ি দিয়ে বিশাল পথ অতিক্রম করে ভারতবর্ষে পৌঁছে যান। ভাস্কো দাগামার ঐ আবিস্কারের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো উপমহাদেশের ওপর শত শত বছরের উপনিবেশবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায়।
১৯১৮ সালের এই দিনে এক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চলা ঐ যুদ্ধের একপক্ষে ছিল রাশিয়া, বৃটেন, ফ্রান্স ও ইতালি এবং অন্য পক্ষে ছিল জার্মানী, বুলগেরিয়া, ওসমানীয় সাম্রাজ্য, হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়া। প্রথম মহাযুদ্ধে দেড় কোটিরও বেশী মানুষ নিহত ও অপর ২ কোটি লোক আহত হয়। এছাড়া যুদ্ধরত দেশগুলোর সম্পদের ক্ষতি হয় প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের। যুদ্ধে মিত্রপক্ষ অর্থাৎ রাশিয়া, বৃটেন, ফ্রান্স ও ইতালির জয় হয় এবং বিজয়ী পক্ষ ভার্সাই শান্তি চুক্তির মাধ্যমে জার্মানীর ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপিয়ে দেয়।

১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ই নভেম্বর পোলিও রোগের ভাইরাস আবিস্কৃত হয়। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুরা পঙ্গু হয়ে যায়। ভাইরাসটি আবিস্কারের ফলে এর প্রতিষেধক আবিস্কারের পথও সুগম হয় এবং অল্পদিনের মধ্যেই পোলিও রোগের টিকা আবিস্কৃত হয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় এ রোগের টিকা দেয়ার ফলে বিশ্বের বহু দেশ থেকে পোলিও রোগ নির্মূল সম্ভব হয়েছে। বাকি দেশগুলো থেকে পোলিও নির্মূল করা সম্ভব না হলেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই হ্রাস পেয়েছে।

১৯৮২ সালের ১১ই নভেম্বর দক্ষিণ লেবাননে ঘাঁটি গেড়ে বসা ইহুদীবাদী ইসরাইলের সেনা কমান্ডের সদর দফতরে শহীদ আহমাদ কাসির ভয়াবহ বোমা হামলা চালান। শাহাদাতপিয়াসী ঐ হামলায় ৮৯ জন ইসরাইলী সৈন্য নিহত ও অপর ৮৬ জন আহত হয়। ঐ বছরের জুন মাসে দখলদার ইসরাইলী সেনারা লেবাননে আগ্রাসন চালায় এবং এক পর্যায়ে বৈরুত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ইহুদীবাদী সেনাদের ঐ বর্বরোচিত হামলায় হাজার হাজার বেসামরিক লেবাননী হতাহত হয়। ইহুদীবাদী জেনারেল এরিয়েল শ্যারনের নেতৃত্বে ইসরাইলী সেনারা ১৯৮২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাবরা ও শাতিলা শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। যাই হোক শহীদ আহমাদ কাসিরের নেতৃত্বে স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের হামলার ফলে দক্ষিণ লেবাননের গভীরে থাকা ইসরাইলী সেনারা তাদের ঘাঁটি সীমান্তের দিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

২০০৪ সালের ১১ই নভেম্বর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংস্থা পিএলও’র প্রধান ও স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত মারা যান। আরাফাত ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং কিশোর বয়সে ইহুদীবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মিশরের কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং স্থাপত্যশিল্পে ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে ফিলিস্তিনে ফিরে এসে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম করার লক্ষ্যে ফাতাহ আন্দোলন গঠন করেন। এর চার বছর পর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা পিএলও’র প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আজীবন তিনি ঐ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৭০ এর দশকে ইয়াসির আরাফাত ইহুদীবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র হামলার নেতৃত্ব দেন। মরহুম আরাফাতের পিএলও’র সদর দফতর ছিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতে। ১৯৮২ সালে ইহুদীবাদী সেনারা লেবাননে আগ্রাসন চালিয়ে বৈরুতে পৌঁছে গেলে আরাফাত তার সংগঠনের দফতর বৈরুত থেকে তিউনিসিয়ায় স্থানান্তর করেন। ঐ স্থানান্তরের ঘটনা ছিল কার্যত ইসরাইলের বিরুদ্ধে পিএলও’র সশস্ত্র সংগ্রামের করুন সমাপ্তি। মরহুম আরাফাত ১৯৮৮ সালে ইহুদীবাদী ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেন এবং এর তিন বছর পর তেলআবিবের সাথে আপোষ আলোচনা শুরু করেন। দুই বছর ধরে আপোষ আলোচনার পর ১৯৯৩ সালে অসলোতে পিএলও এবং ইসরাইলের মধ্যে কথিত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ইহুদীবাদী ইসরাইল অসলো চুক্তিতে দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি পূরণ না করলে ২০০০ সালে ফিলিস্তিনী জনগণ ইন্তিফাদা গণ আন্দোলন শুরু করেন। দখলদার ইসরাইল ২০০২ সালে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ইয়াসির আরাফাতকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। আরাফাত মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে প্যারিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই সপ্তাহ পর ঐ হাসপাতালে ইয়াসির আরাফাত মৃত্যুবরণ করেন। ইহুদীবাদী ইসরাইল আরাফাতের খাদ্যে বিষপ্রয়োগ করার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published.