Search
Wednesday 18 May 2022
  • :
  • :

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, ভরসা নেই: দীপনের বাবা

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, ভরসা নেই: দীপনের বাবা

ঢাকা : দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে, তবে চলমান বিচারের প্রতি ভরসা নেই বলে জানিয়েছেন নিহত প্রকাশক দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে মামলার প্রস্তুতি নেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।  এ সময় সেখানে বসে শাহবাগ থানার একজন দারোগা ও প্রক্টরের উপস্থিতিতে মামলা লেখা হয়। পরে মামলাটি শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়।

ফজলুল হক জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধার আছে বলেই আমি মামলা করতে চাই। তবে মামলায় আমি বাদী হবো না। বাদী হয়ে মামলাটি করবেন দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া সুলতানা। মামলার বাদী না হলেও আমি মামলায় সহায়তাকারী হিসেবে থাকছি।

গত পাঁচ বছরের নজির টেনে দীপনের বাবা বলেন, দেখেন গত পাঁচ বছরে কোনো মামলার রায় হয়েছে কিনা। আর দু’একটি রায় হলেও সেটি কার্যকর কতোটুকু হয়েছে।

এর আগে রবিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ছেলে দীপনের জানাজা অনুষ্ঠানের পূর্বে তিনি বলেন, আমি শনিবারও বলেছি, এখনও বলছি, আমি বিচার চাই না। তিনি বলেন, এ কথা আমি ক্ষোভ থেকে বলেনি। বিচার-বিবেচনা করে বলেছি। রাজনৈতিক শুভবুদ্ধির উদয় হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। আদর্শগত ও রাজনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তা না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে না। থানা পুলিশকে দিয়ে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিকভাবে এ সংকটের সমাধান করতে হবে।

গণতন্ত্র সর্বজনীন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের সব মানুষ সমান নয় কিন্তু সবার বেঁচে থাকার অধিকার আছে। মামলা করতে চান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলায় আমার কোনো আস্থা নেই। প্রশাসন চাইলে করতে পারে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যে কজন ব্লগার খুন হয়েছেন তাদের একটিরও বিচার হয়নি।

সন্তানের লাশ কাঁধে বহন করার শোক সত্যিই অনেক কঠিন উল্লেখ করে আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, মনোবল নিয়েই আমি চলতে চাইছি। ভেঙে পড়ছি না। ৪৩ বছরের তরুণ কর্মঠ একটা ছেলে ছিল ফয়সল আরেফিন দীপন। টাকা-পয়সার প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তাকে এভাবে চলে যেতে হল। এ শোক বহন করতে হবে। বহন না করে উপায় কি?

ইতোপূর্বে হত্যার কোনো হুমকি ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি ছিল না। আড়াই বছর আগে অভিজিৎ রায়ের বই প্রকাশ করেছিল দীপন। অভিজিৎকে তো কিছুদিন আগেই মারা হল। হয়তো বা একই কারণে দীপনকে মারা হতে পারে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় কি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভালো রাজনৈতিক দল গড়ে তোলা, ভালো রাজনীতির চর্চার মাধ্যমেই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ সম্ভব।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমি সংগ্রাম করে আসছি। তার থেকে আমাদের মুক্তি ও উন্নতির কর্মসূচি শীর্ষক ২৮টি দফা প্রণয়ন করেছি। স্বদেশ চিন্তা প্রকাশনা থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছে। এটি মানলে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি। এ সময় তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসন ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপরেও জোর দেন।

২৮ দফার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দফাগুলো অবলম্বন করে যদি কোনো দল দাঁড়ায় (প্রতিষ্ঠিত হয়) তাহলে দেশ পরিবর্তনের দিকে যাবে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনসর্বস্ব গণতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র সর্বজনীন করা দরকার। প্রতিটি মানুষকে তার অধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রেই আত্মনির্ভরতাা ও আত্মশক্তির প্রয়োজন। কিন্তু আমরা পরিচালিত হচ্ছি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি দ্বারা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নব্বইয়ের পর যে গণতান্ত্রিক যাত্রার কথা বলা হয়েছে তা ভালোর দিকে যাচ্ছে না। আশির দশক ও নব্বইয়ের দশকের আন্দোলন বিদেশীদের নির্দেশনায় হয়েছে। ওই আন্দোলন ছিল ত্রুটিপূর্ণ। সে কারণেই প্রত্যাশিত প্রাপ্তিটা আসেনি।

রাতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকার বিচার করতে পারে। আমি দুর্বল মানুষ, একলা মানুষ। আমার কোনো দল নেই। আমার একটা মত আছে, তা প্রকাশ করার সুযোগ পাই না। মিডিয়া নেই, পত্র-পত্রিকা নেই। আমার তেমন টাকাও নেই। বিচার চাইতে কেমনে যাব। অধ্যাপক আবুল কাশেম অরো বলেন- বিবেকবান, চিন্তাশীল লোকের আত্মপ্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে গেছে। আজ মনোবল অর্জন করা কঠিন।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক কাসেমের ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপনকে। তিনি এ প্রকাশনা সংস্থাটির মালিক ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published.